কক্সবাজারের উখিয়ার সাগর পাড়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ এখনো পড়ে আছে। জমছে উৎসুক জনতার ভিড়। নিহতের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনের কাছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কমিটি সদস্যরা।
শনিবার সকালে নিহতের বড় বোনের স্বামী (দুলাভাই) মিজানুর রহমান মৃতদেহটি গ্রহণ করেন বলে জানান, কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন।
নিহত শাহ আলম (৩২) সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রাজারপুর ইউপির তেতুলিয়া গ্রামের শেখ মো: শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার ঈগল-বি নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার কর্মরত ছিলেন বলে জানান ওসি আসলাম হোসেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, শুক্রবার রাত পর্যন্ত উখিয়া থানার পুলিশের হেফাজতে ছিল বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি। পরে মেঘনা গ্রুপের কাছে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হেলিকপ্টারটি জোয়ারের পানি থেকে মুক্ত রাখার জন্য কূলে উঠিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটির পরিচালনাকারি সংস্থা মেঘনা গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার খোরশেদ আলম। বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়ের কারণে সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
মেঘনা গ্রুপের রক্ষাণাবেক্ষণ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো: নজরুল ইসলাম জানান, হেলিকপ্টারটি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ইন্স্যুরেন্স করা আছে। ওই কোম্পানির পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধিদল এখনো ঘটনাস্থলে আসেননি। তাই এখন সরানো যাচ্ছে না হেলিকপ্টারটি। তারা দেখার পর হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাধন কুমার মোহন্ত জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিভিল এভিয়েশন। শুক্রবার বিকালে ওই কমিটির সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাফর আহমদ, কনসালটেন্ট হাসমী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ঘটনাস্থল থেকে কিছু অডিও রেকর্ডের সামগ্রী একটি ব্যাগ, বই ও কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করে।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ইনানী নামিয়ে দিয়েই ফেরার পথে কক্সবাজারের উখিয়ার রেজু খালের মোহনায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এতে এক জন নিহত ও পাইলটসহ আরো ৪জন আহত হয়।








