উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
বিচার সংক্রান্ত ইংরেজি শব্দের বাংলা অনুবাদের জন্য আইন অভিধান প্রকাশিত হওয়ায় বাংলায় রায় লেখাও এখন সহজ হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার পুরোপুরি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।
অনেক ত্যাগ আর তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ৬৪ বছর পর আজো পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি সর্বক্ষেত্রে বাংলার ভাষার ব্যবহার। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা ভাষা সংগ্রামীদের।
ভাষা সংগ্রামী আহমেদ রফিক বলেন, সে্ই সময় আমাদের তিনটা শ্লোগান ছিলো। প্রথমত: রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, দ্বিতীয়ত: রাজবন্দীদের মুক্তি আর তৃতীয়ত: সর্বোস্তরে বাংলা চালু করো।
‘সেই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানেও বলা হলো গণ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের এটাই কী প্রাপ্তি, যে সর্বস্তরে বাংলা চালু হলো না। সেটা উচ্চ শিক্ষা বলুন আর উচ্চ আদালত বলুন কোথাও বাংলা চালু হলো না।
উচ্চ আদালতে বাংলার ব্যবহার দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকলেও এখন আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। বিচার সংক্রান্ত অনেক ইংরেজি শব্দের সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ না থাকায় বাংলায় রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিলো নানান সীমাবদ্ধতা।
বর্তমানে ইংরেজি শব্দের শুদ্ধ বাংলা প্রতিশব্দ ব্যবহারের জন্য আইন অভিধান এবং আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বই মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।
সংবিধান প্রণেতা ডক্টর কামাল হোসেন বলেন, এটা যে শুরু হয়েছে অগ্রগতি হচ্ছে সেটা স্বীকার করতেই হবে। অনেকেই বলতে পারে যে, এটা আরো অগ্রগতি হলে আরো অনেক ভালোভাবে মূল্যায়ন করতাম।
তিনি আরো বলেন, আমাদের যে সিস্টেম আছে সেগুলোকে দেখে বা এর নজিরগুলো দেখে রায় দিতে হয়। যেহেতু এখন পর্যন্ত সেগুলোর অনুবাদ নাই; করাও হয় নাই। আমি প্রথম দিকেই বলে এসেছি এ অনুবাদের কাজ অনেক কঠিন কাজ চাইলে করা যাবে। এক্ষেত্রে প্রথমবার একটি শব্দের সঠিক অনুবাদ করতে কষ্ট হবে কিন্ত একবার হয়ে গেলে এটা সহজ হয়ে যায়।
তবে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন আদালতে বাংলায় রায় দেওয়ার যে ধারা তৈরি হয়েছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তা পূর্ণতা পাবে।







