দীর্ঘ ২২ বছরের স্বপ্ন ছিলো সরকারিভাবে একটি সংগীত ইনস্টিটিউট করার। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবশেষে সম্প্রতি সংগীত ইনস্টিটিউট করার সরকারি অনুমোদন হাতে পেয়েছেন ক্লাসিক ঘরানায় দেশের অন্যতম মেধাবী একজন শিল্পী সানী জোবায়ের। আর এমন আনন্দঘন মুহূর্ত সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে শনিবার সন্ধ্যায় তিনি আয়োজন করেছিলেন একক সংগীতানুষ্ঠানের।
শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালার মূল মঞ্চে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় শুরু হয় ‘এ সলো মিউজিক্যাল ইভেন্ট বাই সানী জোবায়ের’-এর আনুষ্ঠানিকতা। জি-সিরিজ ও দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন ফারহানা জামান।

দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক বাংলাদেশ-এর অনুমোদন পাওয়ার সংবাদ দিয়েই শুরু হয় অনুষ্ঠান। জানানো হয়, গত ৩০ নভেম্বর সরকারি অনুমোদন পায় ‘দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক বাংলাদেশ’। ইনস্টিটিউটটির উদ্দেশ্য জানিয়ে আরো বলা হয়, পাশ্চাত্য সংগীত ও উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মেলবন্ধন ঘটানোই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উদ্দেশ্য। এই প্রতিষ্ঠানে যারা সংগীত শিখতে আগ্রহী তারা যেকোনো বয়সেই শিক্ষা নিতে পারবেন। বয়সের কোনো বাধা ধরা নিয়ম নেই।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘দ্য রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব মিউজিক বাংলাদেশ’-এর এগারোজন ট্রাস্টিকে উপস্থিত দর্শকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। টাস্ট্রিদের সাথে এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠেন সিরিজের সত্ত্বাধিকারী খালেদ। বাংলাদেশে এই প্রতিষ্ঠানটি অদূর ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তব্যে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এমন আনুষ্ঠানিকতার পরেই শুরু হয় গানের আয়োজন। লাইট, সেট সবকিছুর পরিবর্তন। যেহেতু পাশ্চাত্যের সাথে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মেলবন্ধন ঘটনানোই প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য, ফলে সানী জোবায়েরের গানের আয়োজনেও সে বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। যেমন, তারসঙ্গে যারা যন্ত্রশিল্পী হিসেবে ছিলেন তাদের মধ্যে একজন বসেছিলেন কিবোর্ড নিয়ে, একজন মন্দিরা হাতে, তবলা হাতে আরেক জন, হারমোনিয়াম নিয়ে বসেছেন একজন, গিটার, বেইজ গিটার হাতে আরো দুজন। আর নিজে বসেছেন আরো একটি হারমোনিয়াম নিয়ে।
গান গাওয়ার আগে জানালেন নিজের মধ্যে লুকানো অব্যক্ত কিছু কথা। বললেন, আজকের গানগুলো হবে আনন্দ ও বেদনার মিশ্রিত রূপ। আনন্দ এই জন্য যে, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো তিনি একটি মিউজিক ইনস্টিটিউট করবেন, যা অবশেষে সফলতার মুখ দেখলো। আর বেদনা এইজন্য যে, এই অনুষ্ঠানটি তিনি উৎসর্গ করেছেন দুজন হারিয়ে যাওয়া বন্ধু কাজী আশিক জহির ও রিকার্ড নেইরুদ। যাদের বিশেষ ভূমিকা আছে তার শিল্পী জীবনে।
হারিয়ে যাওয়া দুই বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সানী জোবায়ের শুরু করেন তার গান। শুরুতেই কাশ্মিরী সংগীত। ভরাট গলায় মাতিয়ে দেন উপস্থিত দর্শকদের। পাশ্চাত্য আর ভারতীয় যন্ত্রযোগে অন্যরকম আবেশ তৈরি হয় গোটা নাট্যশালার মঞ্চে। মধ্য বয়স্ক কয়েকজনকে গানের সাথে সাথে পরম তৃপ্তিতে মাথা দোলাতে দেখা গেল। এরপর একে একে গাইলেন ঠুমরি থেকে শুরু করে ভারতীয় বিভিন্ন জনপ্রিয় রাগ সংগীত। বাংলা গানও গাইলেন বেশ কয়েকটা। কাটে না বিরহ রাতে গাওয়ার আগে নিজের ওস্তাদের সঙ্গে মজার মজার অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করলেন।







