সম্প্রতি বগুড়ায় এক ছাত্রীকে ক্যাডার দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার। এর পরে কয়েকবার ধর্ষণে তুফানকে সহায়তা করে তার কয়েকজন সহযোগী। বিষয়টি জানতে পেরে তুফানের স্ত্রী আশা ও তার বড় বোন কাউন্সিলর মার্জিয়া হাসান রুমকিসহ একদল সন্ত্রাসী শুক্রবার দুপুরে ওই ছাত্রী এবং তার মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের মারধর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। রাজধানীর মিরপুরের কাফরুলে একটি বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একমাস আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণ করে রিয়াজুল নামের এক ব্যক্তি। টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রীকে দাওয়াত দিয়ে ধর্ষণ করে সমাজের প্রভাবশালীদের বখাটে সন্তান। সর্বশেষ চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। দেশজুড়ে যেন ধর্ষণের মহাউৎসব চলছে। নাগরিক জীবন থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ধর্ষণ এক মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। এটি এক দিনেই ঘটেনি। একটি ফাঁপা সমাজব্যবস্থার অভ্যন্তরে ক্রমে মানুষের এই বর্বরতা প্রকট হয়ে উঠছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিত্তশালীদের এবং প্রভাব প্রতিপত্তিশালীদের দ্বারা এই অমানবিক প্রবণতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। একটি মানবিক উন্নত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে যে সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ভেতর ক্রিয়াশীল হওয়ার কথা, তা আজ রাষ্ট্রিক পুঁজিবাদী লুঠপাটের কারণে নিষ্ক্রিয় এক জড় পদার্থে পরিণত। দেশের প্রতিটি স্তরেই এক ভয়াবহ পচনশীলতা ক্রিয়াশীল। ধর্ষণের মতো সামাজিক বর্বরতা থেকে ক্রমে আরো হিংস্র নৃশংস ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। শুধুমাত্র ধর্ষণেই শেষ নয়, এখন যুক্ত হয়েছে আরো নৃশংসতা। বাড্ডার শিশুটি চিৎকার করায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। বগুড়ায় মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়। এ এক আদিম অসভ্যতার ধারাবাহিকতা নৈরাজ্য যেন চারিধারে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনযন্ত্র এক্ষেত্রে কোন কার্যকর ভূমিকাই রাখতে পারছে না।কিন্তু কেন? দেশে যদি আইনের শাসন বিন্দুমাত্রও থেকে থাকে তবে তার প্রতিফলন ঘটত সামান্য হলেও। তবে কী আমরা একটা অন্তসারশূন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যে বেঁচে আছি? ধর্ষণের ঘটনাগুলোতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়াতে এই অপরাধের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। দিন দিন অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে। জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের কাছে ক্রমশ এক অসভ্য জাতিতে পরিণত হচ্ছি। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি কোন দেশের সভ্যতার মানদণ্ড নয়, এটি সমগ্র বিশ্বের দিকে তাকালে বোঝা যায়। এক অতিশয় সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আজ আমরা একটি কলুষিত জাতিতে পরিণত হচ্ছি। সামাজিক নৈতিকতার পুনর্জাগরণই পারে আমাদের এই অসভ্যতার হাত থেকে পরিত্রাণ দিতে।রাষ্ট্রের পাশাপাশি সামাজিক ভূমিকাও অনিবার্য আজ এই নারকীয় অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। একটি উন্নততর মানবিক সমাজ নির্মাণে এখনই আমাদের ঘুরে দাঁড়াবার সময়।







