সম্প্রতি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্র্যান্ড আড়ংয়ের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মাকেটিং পলিসিসহ ব্যবসা বাণিজ্যের নানা প্রসঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে মিলিত হন আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম।
প্রশ্ন: আড়ং একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ড। এর অপারেশনাল লাইনে নতুন কী যোগ হয়েছে বা কী কী কাজ করছেন?
আশরাফুল আলম: প্রতিবছরই নতুন নতুনে প্রোডাক্ট লাইন আড়ংয়ে যুক্ত হয়। সম্প্রতি তরুণ প্রজন্মের উপরে ফোকাস করে তাগা এবং তাগা ম্যান নিয়ে এসেছি। তরুণদের পছন্দের কথা চিন্তা করে আমরা নতুন প্রোডাক্ট ডেভলপড করছি। পাঞ্জাবি, এক্সিকিউটিভ শার্টস, শর্টস এবং সব ধরণের ট্রাউজার পাওয়া যাচ্ছে।
প্রশ্ন: আড়ংয়ের মতো ব্র্যান্ডের অপারেশনে চ্যালেঞ্জ কী আছে?
আশরাফুল আলম: আড়ং বড় রিটেইল চেইন। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাপ্লাই চেইন মেইনটেইন। আমাদের নিজস্ব ১৪টা প্রোডাকশন সেক্টরে প্রোডাক্ট তৈরি হয়। ওই ১৪টা প্রোডাকশন সেক্টরের অধীনে প্রায় ৬৫০টার বেশি সাব সেন্টার আছে। যার সবগুলোই গ্রামে। ছোট ছোট ঘরের মধ্যে গ্রামের মহিলারা তাদের নিজেদের মতো সময়ে এই প্রোডাকশনগুলো করে। আর আমরা কাজ করছি ৬৫০ জনের বেশি প্রোডিউসারদের দিয়ে। তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদেরকেও আমরা প্রমোট করছি। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে র ম্যাটেরিয়াল সরবরাহ করা এবং সেখান থেকে প্রোডাক্ট তৈরি করে নিয়ে আসা ঠিক সময়ে খুবই চ্যালেঞ্জিং।
প্রশ্ন: অন্য ব্র্যান্ডের মানুষ হিসেবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড প্রাণকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
আশরাফুল আলম: প্রাণ বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান কংলোমারেট। আমাদের প্রতিদিনের যে চাহিদা আছে একেবারে বেকারি আইটেম থেকে শুরু করে অধিকাংশ পণ্যই তাদের আছে।
প্রশ্ন: সকাল থেকে রাত অবধি সব ধরণের চাহিদা পূরণ করে প্রাণ?
আশরাফুল আলম: ঠিকই বলেছেন। বাচ্চাদের টিফিনও তাদের আছে! মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোডাক্ট তৈরি করা অনেক বড় ব্যাপার।
প্রশ্ন: আড়ংয়ের নাম শুনলেই দামের ব্যাপারটি এসে যায়। মনে হয় দামি ব্র্যান্ড। দামের সাথে সমন্বয় করে মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি করছে কি আড়ং?
আশরাফুল আলম: আড়ংয়ের পণ্য সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। স্থানীয় র ম্যাটেরিয়াল দিয়ে দেশি পণ্য আড়ং। যেহেতু দেশি পণ্য হাতে তৈরি হচ্ছে গ্রামে সেহেতু মানের ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে তারতম্য হতেই পারে। যখনই এই ধরণের অভিযোগ পাই। তখনই ওই এলাকাতে গিয়ে তা ঠিক করার চেষ্টা করি। ডেভলপমেন্ট প্রসেস ৪০ বছর ধরে নিয়মিত করে আসছি আমরা। সারাবিশ্বের মধ্যে হস্তশিল্পে সবচেয়ে ভালো মানের পোশাক তৈরি করে আড়ং।
প্রশ্ন: আড়ংয়ের ৪০ বছর পূর্তি উৎসব সামনে?
আশরাফুল আলম: আড়ংয়ের ৪০ বছর পূর্তি উৎসবকে কেন্দ্র করে ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান চলবে। ২৫, ২৬, ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের কারুশিল্পের ঐতিহ্য শহরের মানুষের কাছে বিশেষ করে তরুণদের কাছে পৌছে দিতে ক্রাফট প্রদর্শনীর আয়োজন আছে। আরও ক্রাফট ওয়ার্কশপ হবে। যারা শিখতে চায় তারা শিখতে পারবে এবং নিজেদের বানানো ক্রাফট সেখানে প্রদর্শন করতে পারবে।
প্রশ্ন: আপনাদের এই আয়োজনের সহযোগী কারা থাকছেন?
আশরাফুল আলম: যারা কারুশিল্পী বিগত ৪০ বছর ধরে আমাদের সাথে কাজ করছেন তাদেরকেও এই উৎসবে উৎসাহিত করা হবে এবং আমরা অ্যাওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি। দ্বিতীয় দিনে আকর্ষণীয় ফ্যাশন শো হবে। সেখানে আমাদের হার ষ্টোরি, তাগা, তাগা ম্যান প্রদর্শিত হবে।
প্রশ্ন: র্যাম্পে কারা হাঁটবেন?
আশরাফুল আলম: বাংলাদেশি জনপ্রিয় মডেলরা অংশ নেবেন। সামনে ওয়েডিং সিজন আছে সে উদ্দেশ্যে আমাদের ওয়েডিং কালেকশন এই ফ্যাশন শোর মাধ্যমে লঞ্চ করবো। এই আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই। অন্যান্য পার্টনার হিসেবে বিকাশ, আইপিডিসি, ডেইলি ষ্টার, পাঠাও, পারসোনা এবং টনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান আছে।
প্রশ্ন: কারা পারফর্ম করবেন কালচারাল অনুষ্ঠানে?
আশরাফুল আলম: প্রথম দিনে থাকবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী রুনা লায়লা। দ্বিতীয় দিনে ফ্যাশন শো। আর তৃতীয় দিনে নগর বাউল জেমস থাকবেন।
প্রশ্ন: গ্রামের মহিলারা আপনাদের পণ্য তৈরি করছেন। তাদের প্রতি আপনাদের যে দায়বদ্ধতা তা কি আপনারা পালন করেছেন?
আশরাফুল আলম: আমাদের সাপ্লাইয়ে ৬৫ হাজার মানুষ কাজ করেন। এদের মধ্যে ৮০ ভাগই মহিলা। তাদের জীবন মানের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রজেক্ট আমরা নেই। আমরা ব্র্যাকের একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ব্র্যাকের যেসব উন্নয়ন প্রকল্প আছে সেইগুলোতে তাদেরকে আমরা ইনক্লুড করি। আমাদের প্রতিটি সেন্টারে এবং সাব সেন্টারে তাদের পরিবারকে নিয়ে পরিবার সচেতনতা, লিঙ্গ বৈষম্য দূর, এডুকেশন, নারী সচেতনতাসহ নানা কাজ করি। তাদের ছেলেমেয়েদের ষ্কুল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করি আমরা। আমাদের আর্টিজনদের জন্য হেলথ সিকিউরিটি স্কিম নিয়েছি। এটি হেলথ ইন্স্যুরেন্স।








