দুই বিচারপতির কথোপকথন নিয়ে একাত্তর টিভিতে প্রচারিত সংবাদ ও টকশোর ভিডিও ফুটেজসহ লিখিত স্ক্রিপ্টের বিষয়ে আজ কোনো আদেশ দেননি আদালত। এ বিষয়ে শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আদেশের তারিখ জানতে চাইলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলেন।
সে সময় প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, বিচার বিভাগের মতো প্রতিষ্ঠান না থাকলে রাষ্ট্র্রের আর কোনও প্রতিষ্ঠানই থাকবে না। আইনের শাসনের প্রতি কারো সম্মান না থাকলে তার সাথে সন্ত্রাসীদের পার্থক্য থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিশ্বের কোথাও সমালোচনা করা হয় না, অ্যামেরিকান প্রেস ফ্রিডমেও এই সুযোগ নেই।
একাত্তর টিভির শুনানির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, একাত্তর টিভির সিডিটা দেখার সুযোগ হয়নি। সিডি দেখা হলে আদালত আদেশ দিবেন।
তিনি আরো বলেন, কোনো মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত সে বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না। তবে রায় প্রকাশের পর গঠনমুলক সমালোচনা করা যাবে।
মাহবুবে আলম দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্ববান জানিয়ে বলেন, যুক্তিযুক্ত কথা বলতে হবে; আর যদি তা না হয় তবে বিচার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম ও বিচার ব্যবস্থা মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না; তা কখনোই না। দেশে অনেক টিভি চ্যানেল আছে, অনেক পত্রিকা আছে। সবাই তো এমন করেনি তাহলে কিভাবে মিডিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে?
একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু সাংবাদিক বলেন, এখানে আমরা কারো পক্ষে না; মিডিয়ার ক্ষেত্রে একটা দিক নির্দেশনা দেওয়া উচিত; আমরা কি লিখবো কি লিখবো না।
গত ১৬ আগস্ট (রোববার) সংবাদ ও টকশোর ভিডিও ফুটেজসহ লিখিত স্ক্রিপ্ট আপিল বিভাগে জমা দেয় চ্যানেলটি। বিচার বিভাগ নিয়ে দৈনিক জনকন্ঠে একটি উপসম্পাদকীয় প্রকাশিত হওয়ার পর এর ব্যাখ্যা চেয়ে ২৯ জুলাই সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ এবং উপ-সম্পাদকীয়টির লেখক ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে আদালত আবমাননার রুল জারি করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রুল শুনানির শেষ দিনে ১০ আগস্ট দুই বিচারপতির কথোপকথন নিয়ে প্রতিবেদন ও টকশো প্রচার করে একাত্তর টেলিভিশন। পরদিন আপিল বিভাগ ওই বিষয়ের সিডিসহ সংশ্লিষ্ট নথি ১৬ আগস্ট জমা দিতে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে নিজ থেকে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির বেঞ্চ।
নির্দেশ অনুযায়ী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর বেঞ্চের কাছে নথি জমা দেন এটর্নি জেনারেল।







