সেলিনা হোসেন। বাংলাদেশের বরেণ্য কথাসাহিত্যিক। আজ তার জন্মদিন। ৭১ বছরে পা রেখেছেন তিনি। জন্মদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে।
শুভ জন্মদিন
ধন্যবাদ।
কেমন আছেন?
ভালো আছি।
আজ আপনার জন্মদিন। জন্মদিনের প্রথম প্রহরটাকে কীভাবে উদযাপন করলেন?
আসলে এবার প্রথম প্রহরকে সেভাবে উদযাপন করা হয়নি। কারণ আমি চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। শরীরটা খুব একটা ভালো নেই।
জন্মদিনে সবার কাছে থেকে কেমন শুভেচ্ছা পাচ্ছেন?
হ্যাঁ। পরিবার, কাছের মানুষরা সবাই শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। জন্মদিনে আমার ভালো লাগায় আরও নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে, যখন আমার পাঠকরা আমাকে উইশ করছে। এটা একজন লেখকের জন্য অনেক বড় পাওয়া।
ছোটবেলার জন্মদিনের কোনো স্মৃতি মনে পড়ছে?
আসলে ছোটবেলায় কখনো জন্মদিনটাকে সেভাবে উদযাপন করা হয়নি। তবে আমার ছোটবেলার স্মৃতির ভান্ডার অনেক সমৃদ্ধ। করতোয়ার তীরে বগুড়া শহরে বেড়ে উঠেছি আমি। সেখানে মানুষের সহজ-সরল জীবন, তাদের মানবিকতা সবই আমাকে আজও ছুঁয়ে যায়। সেখানকার বারুয়া মাঝি, খালে-বিলে সোনালী রুপালি মাছ ধরা, ধানের ক্ষেতে ছুটে বেড়ানো— এসব স্মৃতি আমাকে সব সময়ই তাড়িয়ে বেড়ায়। পরবর্তী জীবনে চলার সকল শিক্ষাই আমি সেখান থেকে পেয়েছি।
জন্মদিনে আজ আপনার আর কী পরিকল্পনা আছে?
বিকালে বাংলা একাডেমীতে অনুষ্ঠান আছে, সেখানে আমার জন্মদিনটা উদযাপন করা হবে। বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ আয়োজন করেছে। আর বাসায় মিষ্টি, কেক কিনে রেখে এসেছি। পরিবার আর কাছের মানুষেরা আসবে। সেসব আয়োজনের সবই হবে ইফতারের পর।
আপনি এবার ৭১ বছরে পা রাখছেন। আপনার লেখালেখিতেও আমরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ছোঁয়া পাই।
হ্যাঁ। একাত্তর আমাদের বাঙ্গালীর জীবনের অনেক স্মৃতিকে ধারণ করে। আর সবই আমি আমার লেখায় তুলে ধরেছি। একাত্তরের স্মৃতি, আমার একাত্তর বছর বয়সের স্মৃতির সাথে এক হয়ে মিশে আছে।
আপনার উপন্যাস নিয়ে সিনেমা তৈরি হয়েছে। সামনে আপনার আর কোনো উপন্যাস থেকে সিনেমা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
হ্যাঁ। সিনেমা তৈরি হয়েছে। ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। তবে সামনে এ ধরনের কোনো সিনেমা তৈরির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এখন লেখালেখিতে মনোযোগ দিতে পারছেন?
হ্যাঁ। আমি পুরো সময়টাই লেখালেখিতে দিতে পারছি। আগেও যেমন পেরেছি। এদিক থেকে আমি সৌভাগ্যবতী। আমার পরিবার আমাকে সব সময় অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়েছে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
চ্যানেল আই অনলাইনকেও ধন্যবাদ।
ছবি: জাকির সবুজ








