চট্টগ্রামের দক্ষিণ জনপদ বাঁশখালীতে দু’বছর ধরে মানব পাচারকারী দালাল ও এজেন্টরা সক্রিয় থাকলেও এসব বিষয়ে জানা ছিলো না পুলিশের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মানব পাচারে জড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের টনক নড়ে মাত্র এক মাস আগে। তবে পুলিশ বলছে, মানবপাচাকারীদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে বিদেশ মানে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিলো বৈধ পথের সৌদি আরব, দুবাই, ওমান, মাস্কট। দুই বছর আগে মানব পাচার দালাল ও তাদের এজেন্টরা টেকনাফ, বার্মা, থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার ভয়ংকর সাগরপথের সন্ধান দেয় এ অঞ্চলের মানুষদের। কম টাকায় জীবন ও জীবিকা ফেরানোর এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি অনেকেই। অথচ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হয় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর। ৩৪ জনের তালিকা ধরে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বাঁশখালী ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকতা পঙ্কজ নাথ বলেন, ইতিমধ্যে পাচারকৃত ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ৩৪ জন দালালের তালিকা করা হয়েছে। এবং তাদের উপর নজরদারি করছে পুলিশ।
যাতে কোনো পাচারকারী বাঁশখালী রুট ব্যবহার করতে না পারে। এছাড়া এলাকায় যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ গিয়ে নিখোঁজ রয়েছে তাদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয় জনপ্রশাসন সংসদ সদস্যসহ মানবপাচার প্রতিরোধে প্রথম সভা করেছে ১৩ মে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ জানান, সন্দেহভাজন মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। জিরোটলারেন্স হিসেবে মানবপাচার রোধে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।
মানবপাচারে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দিকে তীর থাকলেও বাঁশখালি সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, দলের কেউ মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত নন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে, মানবাপাচারে সঙ্গে যারা জড়িত সে আওয়ামী লীগ হোক বা অন্য দলে হোক কারো কোনো ছাড় নেই।






