শততম টেস্ট খেলার মাইলফলক থেকে একদিনের দূরত্বে বাংলাদেশ। কলম্বোর পি সারায় প্রায় দেড় যুগের যাত্রা শেষে স্পর্শের অপেক্ষা অনন্য অর্জনকে। চড়াই-উতরাই ছিল, এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের ধারেকাছেও যাওয়া যায়নি, তবুও মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে গর্বিত বাংলাদেশ। গর্বিত লাল-সবুজদের অভিষেক টেস্টের সদস্য আকরাম খান। শততম টেস্টের আগে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানালেন গর্ব, স্বপ্ন আর স্মৃতির কথা।
শ্রীলঙ্কায় বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটি শুরু হবে বুধবার। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা রানে-উইকেটে সেঞ্চুরি করেছেন, এবার দলের শতকের পালা। বর্তমানে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা আকরাম খান জানালেন শুরুর কথা, ‘যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলাম, চিন্তাই করতে পারিনি এত কিছু হবে। আমি সত্যিই গর্ব অনুভব করছি। বাংলাদেশ শততম টেস্ট খেলতে যাচ্ছে। আমরা দল হিসেবে টেস্টে অনেক কিছু করতে না পারলেও অনেক প্লেয়ারই ব্যক্তিগতভাবে ভালো করছে। অনেকেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছে। ইনিংসে পাঁচটা করে উইকেট তুলে নিচ্ছে। সবমিলিয়ে ভালো, উন্নতির দিকে যাচ্ছে দল।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম শক্তি টাইগারপ্রেমীদের অক্লান্ত সমর্থন। গ্যালারিতে, বাইরে; দল হারুক-জিতুক; সমর্থকদের ভালোবাসার কমতি পড়ে না। আকরাম সেটাই মনে করে জানালেন ক্রিকেটাররা এবার দেশকে-সমর্থকদের জন্য দারুণ কিছু উপহার দিতে পারে, ‘ক্রিকেটারদের সুযোগ আছে দেশবাসীকে কিছু দেওয়ার। শততম টেস্টের ফলাফল যদি ভালো হয় সারাজীবন সবার মনে থাকবে।’
মাইলফলকের ম্যাচের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বিসিবি ক্রিকেটার-কর্মকর্তাদের ব্লেজার, ক্যাপ দিচ্ছে। আরও অনেক কিছুই করার ইচ্ছা ছিল বোর্ডের, কিন্তু দেশের বাইরে খেলা হওয়ায় চাওয়ার সবকিছু করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে আকরাম সম্ভাবনা আর স্বপ্নের পরিধিটা সুদূরপ্রসারীই করলেন শততম টেস্টের সামনে দাঁড়িয়ে, ‘আশা করছি সামনে অনেক টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর, দুই নম্বর টেস্ট দল যেমন খেলে; বাংলাদেশ তাদের মতোই খেলবে একদিন। আমরা যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছি, চিন্তা করতে পারিনি টেস্ট খেলতে পারবো। একদিন আমরা আরো অনেক কিছু অর্জন করবো।’
আকরাম অভিষেকে প্রথম ইনিংসে ৩৫ রান করেছিলেন, পরের ইনিংসে ২! ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ৮টি টেস্ট খেলেছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট আজকের যে অবস্থানে, তার উঠে আসার নায়কদের একজন তিনি। অতীত ভেবে তাই গর্বই হচ্ছে ৪৮ বছর বয়সী সাবেকের। টেস্ট ক্রিকেট একটা প্লেয়ারের জন্য সবচেয়ে উঁচুমানের স্থান, আজীবনের স্বপ্ন বলে জানালেন। সেটা ছুঁতে পেরেছেন। তার বুকটা আরো চওড়া হচ্ছে দুই ভাগ্নে নাফীস ইকবাল ও তামিম ইকবাল টেস্ট ক্যাপ পাওয়ায়। তামিম তো এখনো খেলে যাচ্ছেন দলের অন্যতম ভরসা হয়ে।








