আট বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু জাফর অল্প বয়সেই বুঝে গেছে এই পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতা। যে বয়সে স্কুলের ব্যাগ কাঁধে ছোটার কথা, সেই বয়সে তার কচি কাঁধে উঠেছে সংসারের বোঝা। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় অনেক দায়িত্ব পালন করার কারণে স্কুলে যাওয়ার সময় না থাকলেও শিশু জাফরের নিষ্পাপ চোখে রয়েছে আবারও স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন। তার বিশ্বাস, এই নির্মম বাস্তবতা কাটিয়ে একদিন সে অবশ্যই স্কুলে যাবে।
রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠ নিয়ে ‘শরণার্থী ক্যাম্পে’ তাদের থাকার জায়গায় যাওয়ার সময় সে স্কুলে গিয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে জাফর জানায়, সে কখনোই স্কুলে যায়নি।
‘আমি এখানে আসার পর অনেক শিশুকে নীল রঙ করা স্কুলগুলোতে যেতে দেখেছি। আমার ভাইবোনদের মধ্যে আমি সবার বড় হওয়ায় আমাকেই রান্নার জন্যে কাঠ যোগাড় করতে হয়, তাই আমি স্কুলে যাওয়ার সময় পাই না। কিন্তু একদিন আমি অবশ্যই স্কুলে যাব।’
ইউনিসেফ বাংলাদেশ বলছে, জাফরের মতো এমন অনেক রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে যারা পড়ালেখার সুযোগ বঞ্চিত। আর এসব রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা ও তাদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে ইউনিসেফ।
এর আগে গত শুক্রবার ইউনিসেফের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য ১৩০০ নতুন শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়।
এই শিশুশিক্ষা কেন্দ্র গুলোতে ৪-৬ বছরের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। এবং ৬-১৪ বছরের ছেলে-মেয়েদের নন- ফরমাল শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক শিক্ষাকেন্দ্র প্রতি শিফটে ৩৫ জন করে তিন শিফটে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হবে।
(রোহিঙ্গা শিশুটির কথা বাংলা ভাষায় রূপান্তরিত)







