সময়ের বাস্তবতায় মৃত্যুদণ্ডের খবর এদেশে নতুন কিছু নয়! অপরাধ আর অপরাধীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চেনা একটি শব্দে পরিণত হয়েছে মৃত্যুদণ্ডের খবর। তবে দু-একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর ‘দৃষ্টান্তমূলক’ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
গত রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ জিয়াউর রহমানের আদালত মাদক মামলার শাস্তি হিসেবে শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন তাকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কারণ মাদক।
সমাজতত্ত্ববিদরা বলছেন, মাদকের ছোবলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনাময়য় তরুণ সমাজের একটি অংশ। নিঃস্ব হচ্ছে শত-সহস্র পরিবার। সেই সঙ্গে মাদক আসক্ত হয়ে অনেকেই জড়িয়ে যাচ্ছে অপরাধের অন্ধকার জগতে! এসবের ফলশ্রুতিতে সামাজিক জীবনধারায় পড়ছে ভয়াবহ প্রভাব।
ওই মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি দল কোদালকাঠি এলাকায় অভিযান চালায়। তখন ভারত থেকে দুজন ব্যক্তি বাংলাদেশে ঢুকলে তাদের থামার সংকেত দিলে একজন পালিয়ে গেলেও শরিফুলকে একটি প্লাস্টিকের বস্তাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই বস্তা তল্লাশি করে ৩ কেজি ৭০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যে মামলা হয়, তার দীর্ঘ শুনানির পর আদালত রায় দেন।
আইনবিদরা বলছেন, আমরা হত্যার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে মূল্যায়ন করতে পারলেও তিলে তিলে প্রজন্ম কিংবা সমাজকে শেষ করে দেয়ার শাস্তির জায়গায় মৃত্যুদণ্ডকে অনুভব করতে পারি না। ঠিক এই বাস্তবতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের খবরটি অপরাধ বিবেচনায় এক ‘দৃষ্টান্তমূলক’ শাস্তি।
অবশ্য এর আগেও হেরোইন পাচার কিংবা বহনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় এসেছিল।
বিচারিক আদালতের দেয়া রায় প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: যেহেতু আইনে এই শাস্তির বিধান রয়েছে সেহেতু দণ্ডাদেশ দেয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমি মনে করি, দেশব্যাপী মাদকের যে ভয়াবহতা তাতে মৃত্যুদণ্ডের মতো ‘হাই পানিশমেন্ট’ দেয়াই দরকার। আর এই সব দণ্ডাদেশ কার্যকর হলে সমাজে এর প্রভাব দৃশ্যমান হবে।
‘তাহলে এ সংক্রান্ত অপরাধ কমে যাবে।’
আদালতের দেয়া এমন রায়কে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ বলেই মনে করেন বেসরকারি সংস্থা ‘সমষ্টি’র মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলর সাহিদা সুলতানা। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: এ ধরণের রায়ের পর মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের মনে একটা প্রভাব পড়বে। তারা বুঝবে যে, এ ধরণের অপরাধ করলে বড় শাস্তি হতে পারে। এতে করে এরকম অপরাধ না করার একটা মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে তারা একথাও বলছেন: হেরোইন সংক্রান্ত আইনে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকলেও অন্যান্য মাদক যেমন সর্বগ্রাসী ইয়াবা বহন কিংবা সেবনের বিষয়ে এমন আইন নেই। এমনকি যেখানে মাত্র ২৫ গ্রাম হেরোইন বহনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সেখানে কোটি কোটি টাকার ইয়াবাসহ ধরা পড়লেও মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি নেই। আইনের এই ফাঁক-ফোকরের কারণে যুবসমাজ অনেকাংশে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনে জড়িয়ে যাচ্ছে।
তাই ইয়াবা রোধে একই ধরণের আইন প্রণয়ন সময়ের দাবি বলে তারা মনে করছেন।








