আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শিলা ইসলামের সৎ এবং সাধারণ জীবনযাপনের বিষয়ে স্মৃতি চারণ করেছেন এপি’র সাংবাদিক জুলহাস আলম।
সাংবাদিক জুলহাস আলম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন: ‘‘২০১৬ এর শুরুর দিকে ক’দিন ধরেই মাহবুবুল হক শাকিল ভাই আমাকে বলছিলেন, তুই কয়েকটা মুভি পছন্দ করে দিবি, ভাবছি ভালো ছবি দেখবো টানা। সময় হচ্ছিলো না অথবা ভুলে যাচ্ছিলাম। তারপর এক বিকেলে তিনি কল করে বললেন, বনানী আয়, আমি অফিস থেকে বের হচ্ছি, মুভি কিনবো। হাজির হলাম বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিন্যুতে, গাড়ীতে বসে ছিলেন যতোক্ষণ আমি পৌঁছাইনি। নামলেন, দু’জনে ঢুকলাম ফাহিম মিউজিক ভিডিওর দোকানে। খোঁজ শুরু করলাম বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি মুভি। আমার হাতে কয়টা, আর শাকিল ভাইয়ের হাতে কয়টা। দাঁড়িয়ে কথা বলছি কোনটা নিবো, কোনটা রাখবো। এমন সময় দরজা খুলে ঢুকলেন একজন খুবই সাধারণ ভদ্র মহিলা, সাথে ১২/১৩ বছরের মেয়ে।
শাকিল ভাই হঠাৎ কেমন খুশি হয়ে গেলেন, বললেন ভাবী এসেছেন, আয়। দু’পা এগিয়ে গেলেন, আমিও ঘুরে তাকালাম। ভাই সালাম দিলেন, বিনয়ে মনে হলো নুয়ে পরছেন শাকিল ভাই। আমি ভদ্রমহিলাকে চিনি না, পরিচয় করিয়ে দিলেন, বললেন, ভাবী, ও হচ্ছে জুলহাস, আমার আদরের ভাই, এপি-র সাংবাদিক। সালাম দিলাম। ভাই বললেন, উনি আশরাফ ভাইয়ের সহধর্মিনী। তিনি হাসলেন, জিজ্ঞেস করলেন, ভালো আছি কি না। শাকিল ভাইকে মাথায় ছুঁয়ে আদর করে দিলেন, বললেন যেন শরীরের প্রতি যত্ন নেন ভাই। শাকিল ভাই খুব অনুগত ছোট ভাইয়ের মতো মাথা নুইয়ে বললেন, জ্বী আচ্ছা, আপনিও ভালো থাকবেন।
তারপর তিনি মুভির তাকের দিকে এগুলেন, আর আমরা বিদায় নিয়ে ডিভিডির দাম টিকিয়ে বের হলাম। বেরসহবার সময় দেখলাম শিলা ইসলাম ভাবীর হাতে ‘চিত্রা নদীর পারে’-র ডিভিডিটি, আরো খুঁজছেন অন্য কিছু। মিষ্টি করে হাসলেন। গাড়ীতে উঠতে উঠতে শাকিল ভাই বললেন, শিলা ভাবীর মতো এমন নিরহংকার মানুষ তিনি আর দ্বিতীয়জন দেখেননি জীবনে। অত্যন্ত ভালো মানুষ, এতো বড় নেতার স্ত্রী কোনদিন কেউ বুঝতে পারবে না, যদি কেউ না বলে দেয়। খুবই সৎ ও সাধারণ জীবন যাপন করেন।’ তিনি আজ চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে মাত্র ৫৭ বছর বয়সে। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’’











