অবশেষে সবার মুখে ফুটল হাসি। যে হাসি শুধু থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং নাং নন গুহায় আটকে পড়া ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ, তাদের পরিবার-পরিজনের কিংবা থাইল্যান্ডেরও নয়। এ হাসি ফুটবলের, এ হাসি সারাবিশ্বের।
আমরা দেখলাম, পুরো বিশ্ব যখন রাশিয়া বিশ্বকাপের টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচগুলো দেখায় ব্যস্ত, ঠিক সে সময় খবর এলো; গত ২৩ জুন থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই শহরের জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ি এলাকার একটি গুহায় নিখোঁজ হয়ে গেছে মু পা ফুটবল ক্লাবের ১২ ক্ষুদে ফুটবলার এবং তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচ। তবে ৯ দিন পর সবাইকে বিস্মিত করে তাদের খোঁজ জানায় দুই ইংলিশ ডুবুরি।
রাশিয়া বিশ্বকাপের পাশাপাশি মানুষের দৃষ্টি যায় থাইল্যান্ডে। ক্ষুদে ফুটবলারদের কাছে পৌঁছানোর আরও ৬ দিন পর নজিরবিহীন অভিযানে রোববার গুহা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ৪ জনকে। পরের দিন সোমবার উদ্ধার হয় আরো ৪ জন। এরপর তৃতীয় দিনের চূড়ান্ত অভিযানে অবশিষ্ট ৫ জনকেও বের করে আনা হয়। প্রতিকূল সময় ও প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরিচালিত সেই অভিযান দেখেছে সারাবিশ্ব।
ক্ষুদে ফুটবলারদের উদ্ধারের রুদ্ধশ্বাস সব মুহূর্তে পুরো ফুটবল বিশ্বের প্রার্থনা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে যেন একটি বিশ্ব দলে পরিণত হয় মু পা ফুটবল ক্লাব। এই ক্লাবের প্রতিই যেন সবার ভালোবাস। এমনকি ফিফা সভাপতিও এই ক্ষুদে ফুটবলারদের বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখারও আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখেন।
তাদের সন্ধান পাওয়ার আগ পর্যন্ত অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ক্ষুদে ফুটবলাররা হয়তো বেঁচে নেই। আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন তাদের বাবা-মা এবং স্বজনরাও। তবে সবাইকে অবাক করে ৯ দিন প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা টিকে ছিল তারা। প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে নিজেকে শান্ত রেখে অন্যকে বাঁচার প্রেরণা দেওয়া যায়। যে কাজটি করে দেখিয়েছেন তাদের কোচ। যা অনেকের জন্য শিক্ষনীয় হয়ে থাকবে বলে আমাদের ধারণা।
সফল এই অভিযানে ইংলিশ ডুবুরিদের পাশাপাশি অন্যতম হিরো থাই নেভি সিলের সাবেক সদস্য সামান খুনামের আত্মত্যাগও পুরো বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার দুঃখজনক মৃত্যু এই সীমাহীন আনন্দের এক বেদনময় অধ্যায়। যিনি অবসরে থেকেও নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে এই কিশোরদের উদ্ধারে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন।
আমরা আরো দেখেছি, এই অভিযান পুরো পৃথিবীকেই একসূত্রে বেঁধে দিয়েছিল। বিভিন্ন দেশের সেরা সব ডুবুরিরা একত্রিত হয় থাইল্যান্ডে। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার করে তারা প্রমাণ করেন সবাই মিলে কোনো কাজে নামলে সাফল্য নিশ্চিত।
সামান খুনামসহ এই অভিযানে অংশ নেয়া দুঃসাহসিক অভিযাত্রীদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। আমরা আশা করি, যেসব ক্ষুদে ফুটবলাররা জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল তারা সবাই সুস্থ হয়ে আবার সেই প্রাণের খেলা ফুটবলে অংশ নিয়ে একদিন বিশ্ববাসীর মন জয় করবে।








