এই অসহ্য গরমে জীবনযাত্রা যেমন অসহনীয় হয়ে উঠেছে, তেমনি নানা রোগবালাইও যেন পেয়ে বসেছে। সুস্থ থাকতে চাইলে এসব রোগবালাই সম্পর্কে জানতে হবে এবং সচেতন থাকতে হবে।
গরমের সময় যেসব রোগবালাই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে:
ফুড পয়জনিং
গরমের সময়ে কম-বেশি প্রায় সবাই এই সমস্যায় ভোগে। কারণ, গরমে খাবার যদি একটু নিয়ম মেনে না খাওয়া যায় তবে ফুড পয়জনিং হবার অাশঙ্কা থাকে। যেমন: অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, বাসি খাবার, চাহিদার অতিরিক্ত খাওয়া থেকে ফুড পয়জনিং হতে পারে। রাস্তায় খোলাভাবে বিক্রি হওয়া খাবার খেলে ফুড পয়জনিং এর আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি। ফলে দেখা দিতে পারে ডায়রিয়া, বমি, পেটে ব্যথা নানা সমস্যা।
চিকনগুনিয়া
এবছর খুব বেশি ছড়িয়ে পড়া একটি রোগ হল চিকনগুনিয়া। এটি মশাবাহিত একটি রোগ। দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে এ রোগটি বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। এই রোগে শরীরে জ্বর থাকে এবং হাত-পায়ের গিটে গিটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত সুস্থ হতে চাইলে পানি খেতে হবে বেশি বেশি।
হিট ষ্ট্রোক
প্রচণ্ড গরমে অনেক সময় হিট ষ্ট্রোক হয়ে থাকে। আর এটা থেকে দীর্ঘস্থায়ী একটা শারীরিক বিকলঙ্গতাও সৃষ্টি হতে পারে। তাই সচেতন থাকুন। গরমে রাস্তায় চলার সময় ছাতা ব্যবহার করুন এবং সাথে পানি রাখুন।

গরমে নানা রোগের নমুনা চিত্র
সান বার্ন
প্রচণ্ড গরমে আপনার ত্বক পুড়ে যেতে পারে, যাকে বলে সান বার্ণ। এতে ত্বকের উজ্বলতা, লাবণ্যতা সবই আপনি হারাবেন। তাই সান বার্ন থেকে রক্ষা পেতে গরমে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। আর খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া গরমে বাইরে বের হবেন না।
ত্বকের র্যাশ
গরমে ত্বকে র্যাশ হয়ে থাকে, যাকে চলতি ভাষায় বলা হয় ফুসকুড়ি। এতে ত্বকের চামড়ার নিচে লাল লাল দানার মত উঠে থাকে। আবার দেখা যায়, ঘাম থেকেও চামড়ায় চুলকানি হচ্ছে। চামড়া খসখসে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে গোসল করুন এবং ধোয়া পরিষ্কার কাপড় পরুন।
মাম্পস
গরমে মাম্পসের সমস্যা দেখা দেয়। এতে দেখা যায় গলা, চোয়াল সব ফুলে যায়। তখন কথা বলা, স্বাভাবিক খাবার খাওয়া, জীবনযাপন সবকিছুতেই সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া এটার আরেকটা দিক হলো রোগটি ছোঁয়াচে। তাই পরিবারের আর সবার কথা ভেবে সাবধানেও থাকতে হয়।
মাথাব্যথা
গরমে মাথাব্যথা হয়ে থাকে বেশি। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা থাকে তাদের জন্য এটা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে এই সিজনে। তাই রোদে বের হতে হলে ছাতা বা অন্য কোন ব্যবস্থা রাখুন। সম্ভব হলে শিডিউল পরিবর্তন করতে পারেন।
ইনফ্লুয়েঞ্জা ও হাম
প্রচণ্ড গরমে শিশুদের মাঝে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। গরম-ঠাণ্ডা এক হয়ে তারা ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়। তাই মায়েদের এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখুন, প্রাপ্ত বয়স্ক ও শিশু সবারই হাম হয়ে থাকে।
চিকেন পক্স
গরমে পক্স বা বসন্ত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তাই এ রোগের বিস্তার থেকে রক্ষা পেতে চাইলে সচেতন থাকতে হবে খুব বেশি। আর রোগ পরবর্তী সচেতনতাও মেনে চলতে হবে।
জন্ডিস
গরমে ছোট-বড় সবারই জন্ডিস হবার আশঙ্কা থাকে। তাই পানি খান বেশি বেশি। কিন্তু বাইরের খোলা পানি খাবেন না। এছাড়া ডাব, ফলের জুস খান নিয়মিত।
কফ
গরমে কফ হয়ে থাকে। কারণ, ঘাম বসে ঠাণ্ডা লাগে। এছাড়া প্রচণ্ড গরম থেকে ফিরে এসেই হুট করে বেশি ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার কারণে কফ বসে যায়।
চিকিৎসক পরামর্শ
গরমে ত্বকের নানা সমস্যা এবং রোগবালাই নিয়ে পরামর্শ জানতে কথা হয় ঢাকা মেডিকেলের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নয়নমনি সরকারের সঙ্গে।
তিনি বলেন: গরমে প্রয়োজন ছাড়া অবশ্যই রোদে বের হওয়া যাবে না। বের হলেও ছাতা, পানি সাথে রাখা এবং সানক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
এছাড়া রোগবালাই থেকে মুক্ত থাকতে ডাবের পানি, শরবত, ফলের রস খেতে হবে বেশি বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, গরমে স্যালাইন খেলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে স্যালাইন বানানো হলে তা অবশ্যই সঠিক নিয়ম মেনে বানাতে হবে। ‘নইলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হবার আশঙ্কা বেশি থাকবে।’








