প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় ঋণ নয়, অনুদানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা সুন্দরবন ইস্যুতে বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। প্যারিস চুক্তিতে কার্বণ নিঃসরণ কমাতে আইনি কাঠামোর বাধ্য-বাধকতা না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
প্যারিসের এই বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের আর দুই দিন বাকি থাকতে এখানে নানান ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ এবং নেগোশিয়েটররা বলছেন, প্যারিসের এই সম্মেলন থেকে একটি চুক্তি ঠিকই হবে, কিন্তু যে প্রত্যাশা নিয়ে তারা এসেছিলেন হয়তো সে প্রত্যাশা পূরণ নাও হতে পারে।
এই আশঙ্কাকে মাথায় রেখে বাংলাদেশ তার সংবাদ সম্মেলনে আবারও জোড় দিয়ে বলেছে, অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট হতে হবে, একশো বিলিয়ন ডলার কোন দেশকে কতটা দেবে তা নিশ্চিত করতে হবে।
সেই সঙ্গে ঋণের বদলে অনুদান নিশ্চিত করতে হবে এবং জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি বাংলাদেশের।
বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন ফান্ড সোর্স রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। তারা প্রজেক্ট গ্রহণ করেছে এবং তার কার্যক্রম চলছে।
তবে প্যারিসের এই সম্মেলনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে সুন্দরবন ইস্যুটি। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে প্যারিসের এই সম্মেলনে সুন্দরবনের ইস্যুটি সবার দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করছেন।
ইমপ্রেস গ্রুপের অন্যতম সফল পরিচালক এবং প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে পরিচিত মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, এবার জলবায়ু সম্মেলনে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। বাংলাদেশ এবং ভারত সভা করে দাবি জানিয়েছে যে, এক কোটি ত্রিশ লক্ষ লোক যারা সুন্দরবনকে ঘিরে বসবাস করে। ভারত এবং বাংলাদেশ মিলিয়ে এই লোকগুলো জলবায়ু প্রভাবে যে ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় আছে এবং তাদেরকে ওই ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থা থেকে তুলে আনতে এবারই প্রথম কোপ-২১’এ দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি সমাধান হবে বলে আমরা আশা করছি।
বাংলাদেশ এবং ভারত মনে করছে যদি সুন্দরবন ইস্যুটি প্যারিসের এই জলবায়ু সম্মেলনে বেশি গুরুত্ব পায় তাহলে বাংলাদেশ এবং ভারতের উপকূলীয় জনগোষ্ঠি জলবায়ু ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষার জন্য নানান ধরনের উদ্যোগে সহায়তা পাবে।







