প্রায় আড়াই মাসের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপল দাস মঙ্গলবার রাতে ফিরে এসেছেন। নারায়ণগঞ্জের ভূলতা থেকে তার খোঁজ পাওয়া গেলে উৎপলের সহকর্মী ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। এর আগে নিখোঁজ হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মতোই কী কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে; সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ফিরে আসা উৎপলও একেক সময় একেক ধরণের কথা বলছেন। তার ওপর দিয়ে যে ধকল গেছে তাতে স্বাভাবিকভাবেই তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি বোধগম্য। এই মুহূর্তে তার কাছে বিষয়গুলো জানতে চাওয়ার মতো অবস্থাও নেই। এর আগে একই অবস্থা আমরা লক্ষ্য করেছি ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায়সহ সকল নিখোঁজ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই। তাই কারা উৎপলকে অপহরণ করেছে তাদের পরিচয় বের করা জরুরি। আমরা আশা করি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন অপহরণকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়কে উদ্যোগী হবে। কারণ তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে না পারলে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে। এছাড়া বিষয়টি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং রাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এখনও পর্যন্ত যারা নিখোঁজ হওয়ার পর ফিরে এসেছেন, কিংবা যারা এখনও ফিরে আসেননি তাদেরকে কারা অপহরণ করলো এ বিষয়ে তেমন একটা হদিস পাওয়া যায়নি! যদিও আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এটা তেমন কোন কঠিন বিষয় হওয়া উচিত নয়। অনিরুদ্ধ কুমার রায়ের পর উৎপল দাস ফিরে আসায় নর্থ সাউথের শিক্ষক সিজারসহ নিখোঁজ থাকা সবার ফেরার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। আমরা বিশ্বাস করি, এভাবেই তারা ফিরে এসে স্বজনদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাবেন।







