চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দুঃস্বপ্নের সঙ্গে গত মৌসুমে নিজেদের শেষ চার ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছিল রিয়াল। লিগে মোট হার ছিল ১২টি। পয়েন্ট তালিকায় হয়েছিল ‘থার্ড বয়’। সব মিলিয়ে করুণ এক সমাপ্তি। যত দ্রুত সম্ভব আগের মৌসুমটা ভুলে যেতে চাইছিল রিয়াল। কিন্তু প্রাক-মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বায়ার্নের কাছে হার!
তবে সেই অস্বস্তির অধ্যায় শেষ করে সোজা পথে ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার রাতে প্রাক-মৌসুমের ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও আর্সেনালের বিপক্ষে জয় পেয়েছে তারা। যদিও পেনাল্টি নামক ভাগ্য পরীক্ষা দিয়েই জিততে হয়েছে লস ব্লাঙ্কোসদের।
প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল। শোধ করে দুই গোলই। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে। সেখানে ৩-২ গোলের ব্যবধানে আর্সেনালকে হারিয়েছে জয়ের ধারায় ফিরে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
গত মৌসুমে শেষ ম্যাচে সবচেয়ে দৃষ্টিকটু চিত্র ছিল জিদান-বেলের। ম্যাচের শেষদিকে ওয়েলস তারকার সঙ্গে হাত মেলাতেও অস্বীকৃতি জানান ফরাসি কিংবদন্তি। শুধু কোচই নন, মাঠ ছেড়ে টানেলে প্রবেশের সময়ও দলের অন্য কেউ বেলের দিকে ফিরে তাকাননি।
বায়ার্নের বিপক্ষে আগের ম্যাচে গ্যারেথ বেলের না খেলা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। কোচ জিদান তো তাকে দল ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাই বলেছেন। তবে এদিন দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামা ওয়েলস তারকার ঝলকেই ম্যাচে প্রাণ পায় রিয়াল। দারুণ এক গোলও করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা তিনি যে এখনো দলের ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন কোচকে।
ম্যাচের ৯ মিনিটে ডি-বক্সে ইচ্ছাকৃত হ্যান্ডবল করে লাল কার্ড দেখেন নাচো। পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। আর সে পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করে নেন ফরাসি তারকা আলেকজান্ডার লাকাজাতে। ২৪ মিনিটে পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াংয়ের গোলে ব্যবধান বাড়ায় দলটি।
ম্যাচের ৪০ মিনিটে সক্রেটিস পাপাস্টাথপউলস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্সেনালও। আগের ম্যাচের মতো দ্বিতীয়ার্ধে পুরো একাদশ বলদে ফেলেন কোচ জিদান। ৫৬ মিনিটে ব্যবধান কমান বেল। এর তিন মিনিট পর সমতাসূচক গোলটি করেন মার্কো আসেনসিও।
এরপর আর গোল না হলে ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে। তাই-ব্রেকারে অবশ্য লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন বেল। অন্যদিকে আর্সেনালের গ্রানিট জাকা, নাচো মনরিয়েল ও রবি বারটন মিস করেন। ফলে একটি শট বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় রিয়াল।
এদিকে রিয়াল সোজা পথে ফেরার আগেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান জিদান। সোমবার যে বেলকে দল ছাড়ার কথা বলেছিলেন। মঙ্গলবার সেই জিদানই সাফ জানান, ‘আমি কাউকে অপমান করিনি। বাস্তবটা বলার চেষ্টা করেছি।’
গ্যারেথ বেল নিয়ে জিদান দু’দিন আগে মন্তব্য করেছেন, ‘বেল যত তাড়াতাড়ি ক্লাব ছাড়ে, তত মঙ্গল। আজ ছাড়লেই ভালো।’
কয়েকঘণ্টার মধ্যে বেলের এজেন্ট জিদানের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন, ‘একজন ফুটবলারকে কোচ সম্মান করতে পারে না। জিদানের জানা উচিত, কীভাবে একজন ফুটবলারকে সম্মান করা উচিত।’
পরে জিদান বলেন, ‘বেলের রিলিজ নিয়ে রিয়াল কাজ শুরু করেছে। আশা করি, সপ্তাহখানেকের মধ্যে সিদ্ধান্ত জেনে যেতে পারব।’
সেই প্রসঙ্গে মঙ্গলবার জিদানের মন্তব্য, ‘আমি কোনো ফুটবলারকে অশ্রদ্ধা করি না। মনে হয় না, বেলকে নিয়ে কোনো খারাপ মন্তব্য করেছি। যা করেছি, ফুটবলের স্বার্থেই করেছি।’
আর আর্সেনাল ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘সে দারুণ খেলেছে, আমি তার জন্য আনন্দিত। যেটা অন্য সবার বেলায় হয়ে থাকি। সে আমাদের সঙ্গে আছে, ভালো কাজও করছে। সে সবসময়ই খেলতে চায়। তবে আমি জানি না আগামীতে কী ঘটবে। আমি তার সঙ্গে কথা বলিনি। সে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করছে, আর সে কারণেই দলের হয়ে খেলছে। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি।’







