ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস উল্টোপথে চললে বাসের রুট বাতিল করা হবে কর্তৃপক্ষের এই সাবধানবাণীর পরদিনই উল্টো পথে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘চৈতালী’ বাস। ঢাবি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে আজ বুধবার দুপুরের চৈতালী বাসটি কেনো উল্টোপথে গেলো তা জানতে বাসের সংশ্লিষ্টদের ২৭ জুলাই প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়েছে।
অভিযুক্ত বাসের শিক্ষার্থী ও বাস কমিটির কাছে উপযুক্ত ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে অস্থায়ীভাবে চৈতালীর রুট বাতিল করা হবে এবং যে শিক্ষার্থীরা বাস উল্টোপথে চলতে বাধ্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এ এম আমজাদ।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক আইন না ভাঙতে বারবার সাবধান করা হয়েছে। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে রুট বাতিল করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। অথচ এরপরদিনই নির্দেশনা অমান্য করে দুপুরের চৈতালী বাসটি কেনো উল্টোপথে চললো এর কারণ ব্যাখ্যা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজারকে ওই বাসের শিক্ষার্থীদেরসহ আমার অফিসে ডেকেছি। যথাযথ কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে বাসটির রুট অস্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে। আসলে বাসের সব শিক্ষার্থী উল্টোপথে বাস চলুক তা চায় না। কয়েকজন শিক্ষার্থী বাস উল্টোপথে চলতে বাধ্য করে। চৈতালী বাসটি উল্টোপথে চলতে যে শিক্ষার্থীরা বাধ্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শিক্ষার্থীরাই চালকদের উল্টোপথে বাস চালাতে বাধ্য করে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র পরিবহন ম্যানেজার কামরুল হাসান। তবে ঢাবির কোনো নিজস্ব পরিবহন এখন উল্টোপথে চলে না বলে দাবি করেন তিনি।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন,‘উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছি। আমাদের নিজস্ব গাড়িগুলোর কোনোটিই উল্টোপথে চলে না। কিন্তু সমস্যা হয় ভাড়া করা বিআরটিসি বাসগুলোকে নিয়ে। এগুলোর চালকরা শিক্ষার্থীদের চাপে পড়ে উল্টোপথে বাস চালান। আমরা এব্যাপারে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা প্রক্টর স্যারকে জানিয়েছি। আজকে উল্টোপথে চলা চৈতালী বাসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সঙ্গে নিয়ে আগামীকাল প্রক্টর অফিসে যাওয়ার নির্দেশনা পেয়েছি।’
যা বললেন চৈতালী বাস কমিটির সভাপতি
তবে চৈতালী বাস কমিটির সভাপতি বলেন,‘শিক্ষার্থীদের ওপর পুরো দায় চাপানো ঠিক হবে না। সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর চৈতালীর বাস কমিটি উল্টোপথে বাস না নিতে নির্দেশনা দিয়েছে।’
কিন্তু দুপুরের চৈতালী বাসটি উল্টোপথে চলতে শিক্ষার্থীরাই বাধ্য করেছে চালকের এমন অভিযোগের জবাবে চৈতালী বাস কমিটির সভাপতি মির্জা মুহাম্মদ তামজিদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,‘বাস্তবতা হলো উল্টোপথে বাস নেয়ার সংস্কৃতি ছিল তা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থী রাস্তায় শক্তিপ্রদর্শনের চেষ্টা করে। তবে এটাও ঠিক যে আমাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের বদলে বিআরটিসির বাস ভাড়ায় চালানো হয়। বাসগুলো ট্রিপ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ভাড়া পায়। যত বেশি ট্রিপ ততবেশি টাকা। সেজন্য দেখা যায় দুপুরে মিরপুরে শিক্ষার্থী নামিয়ে আবার ক্যাম্পাসে এসে রামপুরার শিক্ষার্থীদের বাসে তোলার তাগাদায় চালকরা নিজেরাই উল্টো পথে চলার সুযোগটা কাজে লাগায়।’
সম্প্রতি ঢাবি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বাস উল্টো পথে চললে ওই রুট বাতিল করা হবে। এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত জানানোর পরদিন বুধবার দুপুরে ধানমন্ডি রাপা প্লাজার সামনের সড়কে দেখা যায়, আসাদগেটের দিকে যাবার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দ্বিতল বাস ধানমন্ডি গভ: বয়েজ হাই স্কুলের সামনের রাস্তা ব্যবহার করে রং সাইড দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তখন চ্যানেল আই অনলাইনের মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখুন সেই দৃশ্য







