এবছর জুলাই মাসে ‘উন্নয়ন উদ্ভাবনে জনপ্রশাসন-২০১৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সামিটের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসনে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেছিলেন, আধুনিক, গতিশীল ও উদ্ভাবনীমূলক জনপ্রশাসনই দেশকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পারে। ১৯৯৬ এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যে বিনা খরচে সাবমেরিন ক্যাবলের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে বাংলাদেশকে যুক্ত করার সুযোগ হাতছাড়া করেছিল- এ কথাও সেদিন উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হলে বাংলাদেশের সকল তথ্য চুরি হয়ে যাবার যে ভয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার করেছিল, তার জন্য প্রযুক্তি দুনিয়ার প্রতিযোগীতা থেকে পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। দূরদর্শিতার অভাব আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে এর জন্য দায়ী করা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হতে কনসোর্টিয়ামকে কয়েক শ’ কোটি টাকা দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রধানমন্ত্রী ওই সামিটে দেশের জনপ্রশাসন প্রতিটি সদস্যের দক্ষতা রয়েছে এবং তা বাড়াতে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছিলেন। বিশ্ব কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আর আমরা কিভাবে তাদের সেই উন্নয়ন যাত্রা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে দেশের কাজে লাগাতে পারি, তা’ই হয়তো ওইসব প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। কিন্তু সম্প্রতি স্মার্টফোন অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সেবা ‘উবার’ চালুর পরে তা বন্ধ করা নিয়ে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার নানা সিদ্ধান্ত আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মহড়া ডিজিটাল জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও দূরদর্শিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আবার হোয়াসঅ্যাপ-ইমো-ভাইবার বন্ধ করতে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিটআরসি এমন খবরও দেশের জন্য নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। এমন অবস্থায় আমরা প্রশ্ন করতেই পারি- জনপ্রশাসন সদস্যরা দেশে-বিদেশে নেয়া প্রশিক্ষণ ও তার অভিজ্ঞতা দেশের কাজে লাগাতে পারছেন কি? ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা তথা সরকারের যে উন্নয়ন রূপকল্প, তার বাস্তবায়ন কি এভাবে সম্ভব? উবার বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করার পর বিশ্বগণমাধ্যমে বাংলাদেশ টেকদুনিয়ার একটি বিশেষ নজরে আসতে পেরেছিল, আবার হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। যদিও উবার সেবা বন্ধ না করে চালু রাখা ও হোয়াসঅ্যাপ-ইমো-ভাইবার বন্ধে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই, জানিয়ে বিষয়গুলোর স্বপক্ষে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন সরকারের দু’জন মন্ত্রী। দেশের জনগণের কাছে প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে জনপ্রিয়তা অর্জন করা ওইসব সেবা একবার বন্ধ করা, আরেকবার চালু রাখার উভয় সিদ্ধান্তই জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে ও গণমাধ্যমে সরকার-জনপ্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ফুঁটে উঠেছে। আমরা লক্ষ্য করছি ওইসব সেবা বন্ধ করলে জনমনে কী প্রভাব পড়তে পারে, সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার পক্ষ থেকে তা যাচাই বা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে না। অামরা বলতে চাই, এসব ক্ষেত্রে জনগণের কল্যাণে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে উন্নত বিশ্বের চিন্তা বা পলিসিযুক্ত করে এ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অনুবিভাগের সমন্বিত সিদ্ধান্তই কেবল পারে প্রকৃত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে।








