জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্যকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আল্টিমেটামে দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাঞ্ছিত ঘোষণাকে ‘অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এ অবস্থানের কথা জানানো হয়।
একই সাথে আন্দোলনের মুখে কোনোভাবেই উপাচার্যের পদ থেকে সরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ড. ফারজানা ইসলাম। কেবল রাষ্ট্রপতির নির্দেশ পেলেই তিনি পদ ছেড়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক ছাত্র-শিক্ষক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্দোলনরত ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে আন্দোলনরত ছাত্র-শিক্ষকগণ উপাচার্য মহোদয়ের পদত্যাগ দাবি করে তাকে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার হলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।
‘সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞাতার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, ভর্তি পরীক্ষার হল পরিদর্শনে উপাচার্য মহোদয়কে কেউ বাধা দিতে পারেন না। উপাচার্য মহোদয়কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং তার পদত্যাগ দাবি অগ্রণযোগ্য এবং অযৌক্তিক।’
বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের এখতিয়ার উপাচার্যের নেই জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়: আন্দোলনরত ছাত্র-শিক্ষকদের তিন দফা দাবির দুই দফার সুষ্ঠু সমাধান হওয়ার পর শুধুমাত্র বিচার বিভাগীয় তদন্তের বিষয়ে আইনজীবীদের আইনি পরামর্শের সাথে মতবিরোধের কারণে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন। উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত তিনি নিজে করতে পারেন না। এ বিষয়ে মহামান্য আচার্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়: ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং তার উপাচার্য পদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৭৩ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই আইনের ১২ ধারায় সুনির্দিষ্টভাবে উপাচার্যের ক্ষমতা বলে দেয়া হয়েছে কিন্তু তার বিরুদ্ধে আনীত কোন অভিযোগের বিষয়ে তার করণীয় সম্পর্কে বলা হয়নি। সুতরাং উপর্যুক্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধা অক্ষুণ্ন রেখে সংযত এবং যৌক্তিক আচরণ করার আহবান জানাচ্ছেন।







