যুগ পূর্তি হলো কৃষি বিষয়ক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’র। উন্নয়ন সাংবাদিকতায় অবিচল থেকে অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করার ভুমিকায় আরো শানিত অবদান রাখবে অনুষ্ঠানটি, সেই প্রত্যাশা বিশিষ্টজনের। একইসাথে তাদের শুভকামনা অনুষ্ঠানটির প্রাণ শাইখ সিরাজকে।
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি। এখনো এককভাবে সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান কৃষিতে। যদিও জাতীয় উৎপাদনে কৃষির অবদান কমতে কমতে নেমেছে ২০ শতাংশের নিচে। তাতে অবশ্য একটুও গুরুত্ব কমেনি বিশ্বের প্রাচীনতম পেশা কৃষির। কৃষির উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘কৃষকের বন্ধু’ হিসেবে যার নাম অবিচ্ছেদ্য, সেই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের অবিরাম পথচলা অব্যাহত।
১৯৮২ সাল থেকে শুরু, বাংলাদেশ টেলিভিশনে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টানা ১৪ বছর কৃষি আর কৃষকের সমস্যা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন টেলিভিশনের পর্দায়।
৯৬ থেকে ২০০৪, মাঝে ৮ বছরের বিরতি, আবারো ক্যামেরা, মাইক্রোফোন হাতে ছুটে চলা মাঠে প্রান্তরে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় কৃষি সাফল্যের গল্পকার শাইখ সিরাজের।
যুগ পূর্তিতে তাই অকৃপণ শুভেচ্ছা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডক্টর আতিউর রহমান বলেন, আমি যখন গ্রামের হাটে গিয়ে দেখি একপাশে নার্সারির জন্য মানুষ গাছ বিক্রি করছে, তখনই শাইখ সিরাজের কথা মনে পড়ে। এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে ব্যাংকের শাখা নেই কিন্তু প্রচুর সবজি উৎপাদন করে। তবে কৃষকরা ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারে না। তাই তার(শাইখ সিরাজ) কথা মতো ব্যাংকের শাখা করে দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, কৃষিতে যে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল কাজগুলো হচ্ছে সেগুলো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা ছড়িয়ে দিয়ে কৃষকদের জানানোর কাজটি শাইখ সিরাজ করছেন। তার মতো অনেক শাইখ সিরাজ আমাদের প্রয়োজন।
ফুলে, ফসলে, শষ্যে, প্রাণিসম্পদে আজকে যে সাফল্য তার গোড়াপত্তনে সরকারের পাশাপাশি মাটি ও মানুষ আর হৃদয়ে মাটি ও মানুষের যুগপৎ সাফল্য মিলে মিশে একাকার।
প্রধান তথ্য কমিশনার ডক্টর গোলাম রহমান বলেন, কখনো কখনো স্ট্রবেরি পাওয়া যায়, বাউ কুল পাই। নতুন ফসল পাচ্ছি, এই যে ধারা এটি সাথে আমরা পরিচিত হয়েছি হৃদয়ে মাটি ও মানুষ দেখে।
তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের পাত্র কৃষক আর কৃষিকে নাগরিক জীবনে ড্রইংরুমে নিয়ে আসার কৃতিত্ব শাইখ সিরাজের, অকপট স্বীকৃতি অর্থনীতি বিশ্লেষকের।
অর্থনীতিবিদ ডক্টর মামুন রশিদ বলেন, ধরেন আমরা যে মুড়ি খাই। এটি কিন্তু বিরাট একটি শিল্প। কৃষক কৃষি ও পণ্য উৎপাদনের পর থেকে বাজারজাতকরণ ও সেখানে সংরক্ষণ পর্যন্ত সব জায়গা একটা সচেতনতা তৈরি করতে পেরেছে হৃদয়ে মাটি ও মানুষ।
২০০৪ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হৃদয়ে মাটি ও মানুষের ৫৮৪টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে চ্যানেল আইয়ে। এর ধারাবাহিকতায় কৃষি সমস্যা ও কৃষি কৌশল বিষয়ক আরেকটি অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষের ডাক’-এরও ৫’শ ২২টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে।
শাইখ সিরাজের পরিচালনায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে চলছে কৃষি দিবানিশি নামে আরেকটি অনুষ্ঠান।






