আইনি বাধ্যবাধকতায় ৯০ দিনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে উপনির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে এই অবস্থার মুখোমুখি ইসি। ডিসেম্বরের শেষ দিকে রংপুর সিটি নির্বাচন আর ২০১৯ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার এই নির্বাচন বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। মেয়রের মৃত্যুর কারণে মৃত্যুর দিন থেকে ৯০ দিনের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না প্যানেল মেয়র। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি। তার আগে গেজেট প্রকাশ করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ঢাকা উত্তরে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হলে তা নতুন ভোটার তালিকায় হবে নাকি পুরনোটায় তার সুরাহা হতে হবে। সিদ্ধান্ত হতে হবে মাসখানেক আগে উত্তর করপোরেশনে যোগ হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের বিষয়েও। হঠাৎ সামনে আসা এই পরিস্থিতি আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনার গতিকে কিছুটা হলেও টেনে ধরবে। সংসদ নির্বাচনের আগে একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গা বাড়ানো আর অন্যদিকে নানা প্রশাসনিক ও মাঠ পর্যায়ের কাজ নির্বাচন কমিশনের। এই গুরুদায়িত্বের মাঝে উত্তরের নির্বাচন ফাইনাল পরীক্ষার আগে টেস্ট পরীক্ষার মতো এসে উপস্থিত। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও একই পরিস্থিতি। কে হবেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী, জোট থেকে নির্বাচন নাকি আলাদা নির্বাচন, জোট হলে কারা কারা জোটে, এরকম নানা মেরুকরণের মুখে পড়তে হবে দলগুলোকে। নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক চর্চায় এগুলো খুবই ইতিবাচক ঘটনা বলে আমরা মনে করি। আর নির্বাচন কমিশন যেহেতু একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, যার কাজই হচ্ছে এসব নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ করা, সেজন্য তারা হয়তো এগুলো খুব ভাল ভাবেই করতে পারবেন। উত্তরের নির্বাচন দিয়ে নির্বাচনমুখী ভোটের রাজনীতির অগ্রযাত্রা আরও শানিত হোক এই আমাদের প্রত্যাশা।







