ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দিরে হামলার পর এক হিন্দু বন্ধুর কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক ও সাংবাদিক সুমন্ত আসলাম।
তিনি লিখেছেন, উত্তম আমার ‘মালাউন’ বন্ধু ছিল। ওর বড় ভাই গৌতম যখন মুসলমান হয়ে উত্তম ফারুক হলেন; বাবা-মা, দুই বোন নিয়ে ওরা একদিন চুপচাপ ভারতে চলে গেল। ব্যাপারটা দেড়দিন পর বুঝতে পেরেছিল আশপাশের সবাই। আমি কেঁদে ফেলেছিলাম কথাটা শুনেই। ওকে আমি পাঁচটা টাকা দিয়েছিলাম, ওর একটা পুরনো নাটাই ছিল, ওটা আমাকে দেবে বলে। সঙ্গে একটা নতুন পত্নিন, যাকে বলে ঘুড়ি। আমি কি সেটার শোকে কেঁদেছিলাম, না বন্ধু হারানোর শোকে?
তিনি লিখেছেন, সাড়ে চার বছর পর উত্তমের খোঁজ পাই আমি, ওর বড় ভাই গৌতম থেকে রূপান্তরিত হওয়া ওমর ফারুক থেকে। চিঠি লিখি আমি উত্তমকে। উত্তম উত্তর দেয়—সংক্ষিপ্ত উত্তর। কিছু জিজ্ঞাসায় আরো একটা চিঠি লিখি আমি ওকে। এটার উত্তর আসে অনেক দেরিতে। ওর চিঠিতে আমি লজ্জা দেখি, ওর অক্ষরে আমি অবনত ছায়া দেখি, ওর কলমের কালিতে আমি বেদনা দেখি—আসলাম, আমি এখন সাইকেলে করে মুরগি বিক্রি করি। ডেইলি চার-পাঁচটা-ছয়টা। কখনো দশ-বারোটা। সংসার তবু চলে না রে! বাবা হার্টের ব্যথায় কাতর। সারাক্ষণ বিছানায়। তুই তো আমাকে অনেক প্রশ্ন করেছিস চিঠিতে। আমি তোকে মাত্র একটা প্রশ্ন করব।
তিনি বলেন, মামুন ফার্স্ট বয়, তুই সেকেণ্ড বয় ছিলি, নজরুল থার্ড আর আমি ছিলাম ফোর্থ। এরমই মধ্যে ফাইভে কেবল তুই একাই বৃত্তি পেলি। সেই নিয়ে আমার কী আনন্দ। আমার প্রিয় একটা লাটাই আর নতুন একটা পত্নিন আমি তোকে দু’দিনের জন্য খেলতে দিয়েছিলাম। এবার বল তো দোস্ত—আমার কি মুরগি বেচার কথা ছিল? জীবনের তাগিদে তুই কি বাংলাদেশে কখনো মুরগি বেচবি সাইকেলে করে? কোনো কোনো দিন উপোস থাকতে হয় আমাদের। জানিস, পেটে খাবার না থাকলে অদ্ভুত একটা শব্দ হয়। আগে এ শব্দটা কখনো শুনিনি আমি!








