নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছার অভাবেই নির্বাচনী হত্যাযজ্ঞ থামছে না বলে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার। তাদের দাবি, নিজেদের সব দায়িত্ব এড়িয়ে পুলিশের হাতে নির্বাচনী দায় ছেড়ে দেয়ার কারণে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ঠেকানো যাচ্ছে না।
প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ছয় দফায়। এরইমধ্যে হয়েছে দুই দফা নির্বাচন। ইসির তথ্যনুযায়ী প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ভাগে ৭৭ শতাংশ। কিন্তু সহিংসতার মাত্রা এতোটাই বেশি যে ম্লান হয়ে গেছে ভোটারদের উপস্থিতি।
পুলিশের গুলিতে ৭ জনের প্রাণহানিসহ দুই দফার ভোটে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩৫ জন। ২০১১ সালের পুরো ইউপি নির্বাচনে প্রাণহানির সংখ্যা ছিলো মাত্র ৩ জন।
এখনো ৪ দফা ভোটাভুটি বাকি, আশংকা তাই অনেক। এরকম অবস্থার জন্য সাবেক নির্বাচন কমিশনাররা দায়ী করছেন ইসিকে। তারা মনে করেন, পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে প্রশাসনকে নির্বাচন কমিশনর নিজেদের অধীনে না নিতে পারলে সহিংসতা থামবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরামর্শও এসেছে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে না, অবাধ নির্বাচন হচ্ছে না। কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না। সব দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে ওন করতে হবে। তারা বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীকে সব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটার মানে তো দায়িত্ব এড়ানো হচ্ছে।
সাবেক সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ বলেন, বর্তমানে যে টাইপের নির্বাচন হচ্ছে তাতে আরো কঠিন হওয়ার দরকার ছিল। কারণ আমি মানুষ মারা সহ্য করবো নাকি অন্য কিছু।
দুই ধাপের ইউপি নির্বাচন মানুষের কাছে খুব গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে দাবি সাবেকদের। তারা মনে করছেন, দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দখলদারিত্ব এবং পেশী শক্তি মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ছহুল হোসেইন বলেন, ২০০৮ সালের আগে অবস্থা ছিল কেন্দ্র দখল করা, জাল ভোট দেওয়া সেই সংস্কৃতি এসে গেছে। আর আব্দুর রউফ বলেন, নেতাকর্মীদের আগেই সর্তক করে দিন যে, কোনো কিছু করতে চাইলে কিন্তু খবর আছে।
তবে মাঝপথে কোনো অজুহাতে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে নির্বাচন কমিশনের চেয়ে বিএনপিরই বেশি ক্ষতি হবে বলে সাবেক নির্বাচন কমিশনাররা মনে করছেন।






