খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে ইসির কাছে চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বুধবার আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসির কাছে চিঠি পৌঁছে দেয়।
এই সিটির নির্বাচন নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগেরই অভিযোগের শেষ নেই। ইসিতে পাঠানো চিঠিতে আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে তাদের বেশ কিছু বক্তব্য জানায়।
চিঠিতে ইসিকে জানানো পুরো বক্তব্য এখানে তুলে ধরা হলো:
১. দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতারা অংশ নিতে পারছে না। এতে নির্বাচনী প্রচারণা বহুলাংশে ব্যহত হচ্ছে। এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও নিশ্চিত হচ্ছে না। পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনসমূহে বিষয়টি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে।
২. অপর দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাবেক মন্ত্রী, খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগী আসামী, মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। যাতে ভোটাররা শঙ্কিত ও আতঙ্কগ্রস্ত। নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া অতীব জরুরি।
৩. জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধনহীন ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হলেও তারা পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে এসে জমায়েত হয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচন কার্যক্রম চালাচ্ছে। খুলনা মহানগরীতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে হিজাব ও বোরখা পরিহিত বহিরাগত মহিলাদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। যারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য ও হুমকি দিচ্ছে। যাতে মহিলা ভোটারদের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে, বিভ্রান্ত হচ্ছে।
৪. আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক সফল মন্ত্রী, সফল সাংসদ, খুলনার সাবেক সফল মেয়র তালুকদার আ: খালেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়ে ভোটারদেরকে বিভ্রান্ত করছে। যা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হয়েছে।
৫. বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে বসে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন অসত্য তথ্য দিয়ে খুলনা নগরবাসীকে বিভ্রান্তিতে ফেলছে, যা সুষ্পষ্ট আচরণবিধির লংঘন।
৬. শহরের নাজিরঘাটে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর প্রচার মাইকের গাড়িতে বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মীরা হামলা করে।
৭. খালিশপুরের নাজিরঘাটে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর প্রচার মাইকের গাড়িতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর উপস্থিতিতে নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এই সময় মঞ্জু বাহিনীর হামলায় আওয়ামী লীগের এক কর্মীর হাত ভেঙে যায়, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাদীন রয়েছেন।
৮. বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও অনেকগুলো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিও হয়েছে, যা শহরে ভীতির সঞ্চার করেছে।
৯. বিভিন্ন ওয়ার্ডে বর্তমান মেয়রের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
১০. গতকাল শহরের শিবিরকর্মী ও বহিরাগত আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে একিটি বিশাল হোন্ডা মিছিল সারা শহর প্রদক্ষিণ করেছে। নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
১১. নির্বাচনী প্রচারণার বিধিমালায় ব্যত্যয়ে রিটার্নিং অফিসার আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে প্রতিনিয়ত নোটিশ প্রদান করলেও বিএনপির প্রচারণার বড় বড় ব্যত্যয়গুলোর বিষয়ে নির্বিকার।
১২. প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার পদে বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে চিহ্নিত জামায়াত বিএনপিপন্থী শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।







