কয়েক দশক ধরে ইলিশ মাছের উপর নির্ভর করে অনেকটা স্বাচ্ছন্দেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন মিয়ানমারের জেলেরা। কিন্তু সম্প্রতি অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং নানা অনিয়মের মূল্য গুনতে হচ্ছে তাদের।
এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিসিসি ওয়ার্ল্ড। সেখানে নানা তথ্য উপাত্ত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন কারণে কম ইলিশ পাচ্ছেন মিয়ানমারের জেলেরা। মিয়ানমারে ইলিশের প্রাপ্তি আশংকাজনকভাবে কমে গেছে।
জেলেরা বলছেন, আমরা ইলিশ মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করি। আমাদের বাপ-দাদারাও এই কাজ করেছে। সেসময়কার ইলিশ বড় ছিলো এবং সংখ্যায়ও প্রচুর পাওয়া যেতো। কিন্তু ইদানিং আমি এবং সন্তান মিলে যে ইলিশ ধরি তার আকার দিন দিন ছোটো হয়ে যাচ্ছে।
মিয়ানমারের ইরাদি বদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ মাছ ধরছেন ইউ কাউক তিন। বয়স ৬৫। যার পরিবার এই মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। তিনি জানিয়েছেন, নদী থেকে ইলিশ মাছ কমে যাচ্ছে।

ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক টেনুয়ালোসা হিলিসা। এ্ই মাছ ভারতের কোল ঘেষে বঙ্গোপসাগর এবং এর নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। মিয়ানমারের রপ্তানিকৃত মাছের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে এই ইলিশ মাছ। কিন্তু কয়েক দশকে এই মাছ কমে গেছে।
বিশ্বের মোট ইলিশের ১৫-২০ শতাংশ পাওয়া যায় এই মিয়ানমারে। বিশ্বের সব থেকে বেশি ইলিশ পাওয়া যায় বাংলাদেশে। এখানে বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ পাওয়া যায়। বে অব বেঙ্গল লার্জ মেরিন ইকোসিস্টেম (বিওবিএলএমই) নামের এক প্রজেক্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের বুক চিরে বঙ্গোপসাগরে পতিত নদীগুলোতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায়। ডিম পাড়ার সময়ে ইলিশ স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে নদীতে এসে ডিম ছাড়ে। ট্রলারে করে অবৈধভাবে টানা জালের সাহায্যে প্রচুর ইলিশ ধরা হয়। মিয়ানমারের জেলেরা ২ দশমিক পাঁচ সেন্টিমিটার টানা জাল ব্যবহার করে থাকেন যেখানে নিয়ম হচ্ছে ১০ সেন্টিমিটার। এ কারণে মা ইলিশের পাশপাশি অনেক বাচ্চা ইলিশও ধরা পড়ে যায়।

দেশটিতে ইলিশ সংরক্ষণের জন্য তেমন কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। যদি ইলিশের প্রাপ্তি বাড়ানো ইচ্ছা থাকে তাহলে অতিদ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন গবেষকরা। ইলিশ কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ পানি দূষণ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন। পানির ভিতরে নিমজ্জিত ময়লা, প্লাস্টিক ব্যাগ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি ইলিশের স্বাভাবিক জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
কিন্তু ইলিশ কমে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করছেন না দেশিটির ফিশারিজ বিভাগের কর্মকর্তারা।








