পরের রাউন্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ইরানের চাই ড্র। স্পেনের দরকার জয়। এমন ম্যাচে ইরান শুরু থেকে ভূতুড়ে রক্ষণ সাজিয়েও স্পেনকে আটকাতে পারল না। কস্তার গোলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল স্প্যানিশরা।
স্পেন-ইরান এই প্রথম মুখোমুখি হয়। রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরানিরা মরক্কোর বিপক্ষে গোলের দিকে কোনো শট না নিয়েও জয় পায় প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে।
স্পেন প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল। ২০১০ সালে প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইনিয়েস্তারা।
এদিন প্রথমার্ধে স্পেন প্রচুর পাস খেললেও ভালো আক্রমণ হয়নি। বলার মতো প্রথম সুযোগ সৃষ্টি হয় ৩০তম মিনিটে। ডেভিড সিলভা বক্সের ভেতর থেকে সেটি বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।

৩৫ মিনিটের পর ইরান শতভাগ রক্ষণাত্মক ফুটবলে মন দেয়। প্রায় সবাই মিলে ডিফেন্সে এসে স্পেনের আক্রমণ সামলাতে থাকে। স্পেন মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে এসে বারবার খেই হারিয়েছে। এমন রক্ষণাত্মক ফুটবলের সামনে দুর্দান্ত গতির যে ড্রিবলিং দরকার, কেউই সেটা দেখাতে পারেননি।
৪৭তম মিনিটে ডেভিড সিলভা দূরপাল্লার শটে জাল খোঁজার চেষ্টা করেন। ইরান ডিফেন্ডার সেটিও ব্লক করে দেন।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও ইরান রক্ষণাত্মক ফুটবলে মন দেয়। সবাই মিলে বক্সের ভেতর ভিড় বাড়িয়ে স্পেনের আক্রমণ ব্লক করতে থাকেন। এর ভেতর ৪৯তম মিনিটে ইসকোর কর্নার থেকে পিকের একটি ফ্লিক অল্পের জন্য গোল হয়নি।
পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বুসকেটস জোরালো শট নেন। ইরান গোলরক্ষক আলিরেজা বায়রানভান্ড সেটি প্রতিহত করেন। সামনে ছিলেন ভাজকুয়েজ। ফিরতি বল প্রায় তার সামনে এসে পড়ে। মাটিতে পড়তে পড়তে আলিরেজা সেটি কোনোমতে বের করে দেন।
ইরানের সব চেষ্টা বৃথা যায় ৫৪তম মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে দারুণ একটি মাটি কামড়ানো পাসে কস্তাকে বল দেন ইনিয়েস্তা। কস্তা ছিলেন বক্সের ভেতর। তিনি শট নেয়ার আগেই ইরানের রামিন রেজাইআন ক্লিয়ার করতে গিয়ে কস্তার পায়ে লাগান। বল সেখান থেকে চলে যায় জালে!

এবারের আসরে এটি কস্তার তৃতীয় গোল। স্পেনের হয়ে শেষ ৯ ম্যাচে এই নিয়ে ৯টি গোল করলেন তিনি।
গোল হজম করে ইরান রক্ষণ ছেড়ে উপরে উঠে খেলতে থাকে। ৬২তম মিনিটে হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত দেখতে হয় তাদের। মিডফিল্ডার সাঈদ এজাতোলাহি বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন। স্পেন অফসাইডের আবেদন জানায়। রেফারি শুরুতে চুপ থাকেন। পরে রিপ্লে দেখে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন।
৮৩তম মিনিটে ইরানের একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়। আমিরি দারুণ একটি ক্রস পাঠান স্পেনের বক্সের ভেতর। পিকেকে বিট করে তারেমি লাফিয়ে উঠে হেডও করেন। অল্পের জন্য সেটি বাইরে দিয়ে চলে যায়।
গ্রুপ পর্বে স্পেনের শেষ ম্যাচ মরক্কোর বিপক্ষে, ২৫ জুন। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় শুরু হবে ম্যাচটি।








