সৌদি আরবের দু’টি তেল স্থাপনায় হামলার প্রতিবাদে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিকসহ সব ধরনের জবাব দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের।
তবে সৌদি আরব সবসময় যুদ্ধ ও উত্তেজনা পরিহার করতে চায় বলেও জানান তিনি। বলেন, ওই দুই তেল স্থাপনায় চালানো ড্রোন ও মিশাইল হামলার দায় ইরানকে মানতে হবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে যাওয়া সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের বিবিসি’কে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সমর্থন চাই। আমরা কূটনৈতিক বিকল্প, অর্থনৈতিক বিকল্প এবং সামরিক বিকল্পসহ সব বিকল্পের কথাই ভাবছি। সময় হলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে চাই। কিন্তু একই সময় ইরানকে এ আভাস দিচ্ছি যে, আপনাদের ব্যবহার অব্যাহত চলতে দেয়া যায় না।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির ইন্ধনে ইরান ওই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে ওই হামলার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়, হামলার পরিসর, স্কেল এবং জটিলতা হুতি বিদ্রোহীদের সক্ষমতার বাইরে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের সাথে অতীতেও আমাদের সম্পর্ক সন্তোষজনক ছিলো না, ভবিষ্যতেও সন্তোষজনক সম্পর্ক কাজ করবে না। শিগগিরই সুষ্ঠুভাবে তদন্ত শেষে আমাদের হাতে থাকা সম্ভাব্য সকল ধরণের জবাবের প্রস্তুতি থাকবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন যোগদানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির মধ্যে এক ঐতিহাসিক মিটিংয়ের চেষ্টা চালান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
তবে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান।
হাসান রুহানি বলেন, একটি জাতিকে নীরবে হত্যা করার পরও কিভাবে তাদের বিশ্বাস করবে মানুষ, তারা ৮৩ মিলিয়ন ইরানীর ওপর বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করেছে। ইরানীরা কখনো এই অপরাধ এবং এই অপরাধীদের ভুলতে পারবে না, ক্ষমা করতে পারবে না।
১৪ সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো’র দুটি কারখানায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় বৈশ্বিক তেল উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল।







