দারুণ আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচ। গোলটাই শুধু হচ্ছিল না। ম্যাচ প্রায় শেষের মিনিটে। এমন সময় অনিচ্ছাকৃত ভুলটা করে বসলেন মরক্কোর আযিয বহুদ্দোজা। তার মাথা ছুঁয়ে বল ঢুকে যায় নিজেদের জালেই, আর তাতেই ঈদ উপহার মেলে জয় পাওয়া ইরানের।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনে সেন্ট পিটার্সবার্গে অতিরিক্ত সময়ের আত্মঘাতী গোলে মরক্কোর বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে ইরান।
ইরানের র্যাঙ্কিং ৩৭, মরক্কোর ৪১। র্যাঙ্কিংয়ে কাছাকাছি থাকায় উপভোগ্য এক ম্যাচের আশায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। মরক্কো-ইরান সেটাই উপহার দিয়েছে পুরোটা সময়জুড়ে।
দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু থেকেই জমে ওঠে ম্যাচ। খেলা শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই ইরানের অর্ধে দুদফা আক্রমণ শানায় মরক্কো।
পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি এশিয়ান জায়ান্টরাও। ১২ মিনিটে ‘ইরানীয়ান মেসি’খ্যাত সরদার আজমুনের ২৫ গজ ভেদী শট কাঁপিয়ে দেয় অ্যাটলাস সিংহদের।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ মিলেছিল ইরানের সামনে। মরক্কান চার খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে সরদার আজমুনের নেয়া শট আটকে যায় প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক মুনির মোহামেদের গায়ে লেগে। ফিরতি বলে শট নিয়েছিলেন আলীরেজা জাহানবক্স। মুনির ফিরিয়ে দেন সেই শটও।
প্রথমার্ধ দুর্দান্ত থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে এসে যেন রঙ হারাতে বসে দুদলের খেলাই। আক্রমণে ভাটা পড়ে। মাঠের খেলা ভুলে কয়েকবার হাতাহাতিতেও জড়ান ফুটবলাররা।
এরপরও ম্যাচে এগিয়ে থাকতে পারত মরক্কো। ৮০ মিনিটে ইরানের জাল বরাবর দারুণ এক শট নিয়েছিলেন ইব্রাহিমি। কিন্তু গোলরক্ষক আলিরেজা দক্ষতায় গোলমুখ অক্ষত রাখে এশিয়ান দলটি।
গোলশূন্য ম্যাচ যখন ড্রয়ের অপেক্ষায় শেষের পথে, তখনই ফ্রি-কিক পায় ইরান। অতিরিক্ত সময়ে ইহসান হাজী সাফির সেট-পিস মাথা ছুঁয়ে ফেরাতে গিয়েছিলেন মরক্কোর বহুদ্দোজা। সেই হেড উল্টো নিজেদের জালে ঠাঁই নিলে, আনন্দে ফেটে পড়ে ইরান। নিশ্চিত হয় গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট।
গ্রুপ ‘বি’তে দুই দলই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ২০ জুন। মরক্কো খেলবে পর্তুগালের বিপক্ষে। ইরানের ম্যাচ স্পেনের সঙ্গে।







