ইরাক-ইরান সীমান্ত অঞ্চলে ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। শেষ খবর পর্যন্ত ২২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ হাজারে।
ইরানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র হেনাম সাইদির বরাতে টেলিগ্রাফ জানায়, পশ্চিম ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশ ও আশপাশের এলাকা মিলে কমপক্ষে ২১৪ জন নিহত হয়েছে। আরও ৭ জন ইরাকে মারা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের সূত্রে জানিয়েছে বিবিসি।
ইরানের একটি ত্রাণ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর বর্তমানে কমপক্ষে ৭০ হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে আছে। ইরানের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছাতে পৌঁছাতে মৃতের সংখ্যা অনেক আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রোববার রাত ৯টা ১৮ মিনিটে তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ইরাক-ইরান সীমান্ত অঞ্চল। সীমান্তের হালাবজা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ৩৩.৯ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূ-তত্ত্ব বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে বাসাবাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে আসেন শহরের বাসিন্দারা। মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে লাউডস্পিকারে চলে প্রার্থনা। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইরাকের সুলাইয়ামানিয়ায় শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
তবে ইরানের কাশর-ই-শিরিন এলাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট প্রধান মোর্তেজা সেলিম ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল আইআরআইএনএন’কে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে সেখানে কমপক্ষে ৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু গ্রামে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা।
উত্তর ইরাকে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের আশপাশের অন্যান্য শহরেও ছিল একই দৃশ্য। এ অঞ্চলের মানুষকে আবারও ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ভবন থেকে দূরে থাকা ও লিফট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে ইরাকের আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আইআরআইএনএন’কে ইরানের জরুরি সেবা প্রধান পীর হোসেন কুলিভান্দ জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু ভূমিকম্প আক্রান্ত বেশ কিছু স্থানে ভূমিধস হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ভূমিকম্পের প্রভাব না পড়লেও তুরস্ক, ইসরায়েল, এমনকি কুয়েতেও অনুভূত হয়েছে শক্তিশালী এ ভূমিকম্প।







