ইরাকের মসুলে তাৎপর্যপূর্ণ জয়ের পর দেশটিতে কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) খিলাফতের পতন হয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জঙ্গিদল আইএস মসুলের আল-নুরি মসজিদ থেকে তিন বছর আগে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলো, ইরাকী বাহিনী শহরটির বিধ্বস্ত এই মসজিদের পুর্নদখল নিয়েছে।
বিধ্বস্ত গ্র্যান্ড মসজিদটি আইএস মুক্ত করেছে বলে দাবি করেছে ইরাক। আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি তিন বছর আগে ঠিক এই জায়গাটি থেকেই কথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেছিলো।
ইরাকের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় এমনটি জানিয়ে বলা হয়, দেশটিতে জঙ্গিদলটির রাজত্বও শেষ হয়েছে। “তাদের কল্পিত রাষ্ট্রের পতন হয়েছে”, ইরাকের সামরিক মুখপাত্র ব্রিজেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া রাসুল দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভিকে মঙ্গলবার এমনটি জানান।
২০১৪ সালের ২৯ জুন সিরিয়ার আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলের বিশাল এলাকা এবং ইরাকের মধ্যাঞ্চলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন বাগদাদি, যার খলিফা তিনি নিজে। সিরিয়ার রাকা শহরকে ঘোষণা করা হয় সেই খিলাফতের রাজধানী।
এর মধ্য দিয়ে গঠিত হয় ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত বা আইএসআইএল, যা সংক্ষেপে আইএস নামে পরিচিতি পায়।
যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত ইরাকি বাহিনীর অগ্রযাত্রায় গত সপ্তাহেই আইএস ১২ শতকে নির্মিত আল-নুরি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তা ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে।
লে.জে. আব্দুল ওয়াহাব আল-সাদি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এপিকে জানায়, সকালে আক্রমণ শুরুর পর মঙ্গলবার দুপুরে এলিট স্পেশাল ফোর্স কোম্পাউন্ডে প্রবেশ করে এবং আশেপাশের রাস্তাগুলোর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
তবে নিরাপত্তা বিধানে জায়গাটি বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। কেননা আইএস জঙ্গিরা পিছু হটার সময় অনেক ক্ষেত্রেই বিস্ফোরকের ফাঁদ রেখে যায়।
এরপরও প্রায় ৩০০ জঙ্গি এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, ইরাকি কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশা করছে ৮ মাসের দীর্ঘ যুদ্ধটি আর কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। টাইগ্রিস নদীর পশ্চিমে এক কিলোমিটারেরও কম অংশ (০.৫ মাইল) এখন কথিত আইএসের দখলে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি ইতিমধ্যেই লড়াইয়ের সমাপ্তি টানার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বুধবার এমনটি জানানো হয়।
এই অঞ্চলের কঠোর লড়াই এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বোমা হামলায় হাজারো সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে এবং ৮ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি লোক তাদের বাসাবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন। শহরটির একটি বড় অংশ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে এবং গ্রীষ্মের তাপদাহে মৃতদেহের দূর্গন্ধ প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে লড়াই করা সেনারা জানান।
এক সময়কার ১৫ লাখ অধিবাসীর বহুজাতির মানুষের আবাসস্থল মসুল আইএস মুক্ত করতে লড়াই শুরু হয় গতবছরের অক্টোবরে। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দিশ বাহিনীও একই সময় থেকে সিরিয়ার রাকায় আইএসের কথিত রাজধানী থেকে জঙ্গিদলটিকে হটানোর লড়াই শুরু করে।
এই দুই শহরে কথিত আইএস’র পতনই ভূমি অধিকার করে জঙ্গি কার্যক্রম চালানো কথিত আইএস’র সমাপ্তি টেনে দিয়েছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএস এখন বিশ্বজুড়েই তাদের সন্ত্রাসী হামলা বিস্তৃত করছে।








