বুধবার পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। দেশটির সব মানুষ তাকিয়ে আছেন ফলাফলের দিকে। গত ২৫ বছরে পাকিস্তানের ক্রীড়াঙ্গনের দিকে কোনো সরকারই তেমনভাবে নজর দেয়নি। উল্টো স্বজনপোষণের অভিযোগই শুধু শোনা গেছে। এবার সরকার বদলের সঙ্গে তাদের ক্রীড়া দুনিয়ায়ও বদল আসবে বলে আশা সেদেশের মানুষের।
পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন যদি ক্ষমতা হারায় এবং ইমরান খান যদি প্রধানমন্ত্রী হন (যদিও সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ইমরানের জয় প্রায় নিশ্চিত) তাহলে পাকিস্তানের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক রদবদল হবে। বর্তমানে পাকিস্তানের ক্রিকেট, হকি, টেনিস ও অলিম্পিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা সবাই নওয়াজ শরীফের ঘনিষ্ঠ।
পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের প্রধান খালিদ সাজ্জাদ খোখার নওয়াজ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহসান ইকবালের আত্মীয়। অনেক বছর ধরেই এই সংস্থার প্রধান হওয়ার আশা ছিল তার। কিন্তু হতে পারছিলেন।
অবশেষ ২০১৫ সালে ইকবাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতেই অলিম্পিক সংস্থার প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান খোখার। তার কারণেই পদত্যাগে বাধ্য করা হয় সাবেক অলিম্পিয়ান আখতার রসুলকে। এ নিয়ে পাকিস্তান ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
খোখার দায়িত্ব নেয়ার পর পাকিস্তান হকি কোনো উন্নতি তো হয়ইনি, বরং দিনে দিনে আরো ঐতিহ্য হারিয়ে পাকিস্তান হকি। এমনকি অলিম্পিকেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশ্বকাপে সপ্তম হয়েছে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। ব্যর্থ হয়েছে এশিয়া কাপেও। পাকিস্তান হকি সংস্থার অন্তর্কলহ ক্রমশ বাড়ছে। তাই খোখারকে আর চাইছে না কেউই।
পাকিস্তান টেনিস সংস্থার প্রধান সালিম সামিউল্লাহ খান ২০১৪ সালে পুননির্বাচিত হয়েছেন। তিনিও নওয়াজ সরকারের ঘনিষ্ঠ। তিনি যখন দায়িত্বে আসেন তখন ডেভিসকাপে এশিয়া-ওশেনিয়া জোনে দ্বিতীয় হয়েছিল পাকিস্তান। প্রথম বছর বেশ সাফল্য পেলেও এখন আবার খুব খারাপ জায়গায় পাকিস্তান টেনিস। তিনে নেমে গেছে তারা। সংস্থায় কোনো সচিব নিয়োগ দেয়া হয়নি। তিনজনের একটা কমিটি সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে।
এই সংস্থা থেকে আরো একটু এগিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড-পিসিবি। গত বছরের আগস্ট থেকে ক্রিকেট বোর্ডের পৃষ্ঠপোষক নওয়াজ শরীফ নিজেই। আর চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন শরীফ ঘনিষ্ঠ নজম শেঠি। যিনি আবার নিজের ক্ষমতা বাড়াতে গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে ফেলেছেন। যা বেশ বিতর্কিতও। গুঞ্জন আছে, পাকিস্তান ক্রিকেটকে যারা আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন তাদের কাউকেই রাখেননি তিনি।
শুধু তাই নয়, সরকার বদল হয়ে তার ডানা ছাঁটা হতে পারে এমন আন্দাজ করে শেঠি আগাম হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বোর্ডের কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করলে আইসিসি ছেড়ে কথা বলবে না।
পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আরিফ হোসেনও উন্নয়নমূলক তেমন কোনো কাজ করেননি। শুধু ক্ষমতা ভোগ করে যাচ্ছেন, আর পিঠ বাঁচাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক সংস্থার মাধ্যমে।
পাকিস্তানের অনেক মানুষের আশা, নতুন সরকার আসলে স্বজনপোষণ ছেড়ে ক্রীড়া প্রশাসনে যোগ্য লোকদের বসিয়ে দিক। আর ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হলে সেটা করবেন বলেই তাদের আশা।







