কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রী হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এই তদন্তের জন্য প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। জেলা জজ মনোনীত বিচার বিভাগীয় একজন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপককে নিয়ে জেলা প্রশাসককে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত। সেই সাথে এই কমিটি গঠনের সাত দিনের মধ্যে আদালতে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের করা কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আর ক্যাম্পাসের বাইরে রাখতে বলা হয়েছে নির্যাতনে জড়িত অভিযোগ থাকা দুই শিক্ষার্থীকে। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এবং ওই শিক্ষার্থী চাইলে ফৌজদারি মামলা করার স্বাধীনতা থাকবে বলেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ওই ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও যেন প্রচার না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
ইবি’র আলোচিত ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মহসীনের করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রুলসহ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা কহয়, ইবিতে ভর্তির কয়েক দিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিষ্ঠুরতার শিকার হন এক ছাত্রী। নেত্রীদের কথা না শোনার অভিযোগ তুলে ওই ছাত্রীর ওপর সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানো হয়। অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন নেত্রীরা। ভয়ে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যান। গত রোববার রাতে ইবির ছাত্রী হলের গণরুমে এ ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার প্রক্টর, হল প্রভোস্ট ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে ওই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ করেন।








