ইন্দোনেশিয়ার বৈবাহিক সম্পর্ক বহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যে আইন পাস করে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা পিছিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। মূলত বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার কর্মীদের আন্দোলনের ফলে দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্তে আসে।
গত সপ্তাহে এই ধরণের অপরাধ দণ্ডনীয় অপরাধ কিনা, সে বিষয়ে নতুন আইন পাশ করার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছিলেন দেশটির সরকার।
তবে এই ধরণের কর্মকান্ড অপরাধের মধ্যে পরবে কিনা বা কোন দণ্ডের ব্যবস্থা করা হবে কিনা সে বিষয়ে একটা ভোটের ব্যবস্থা করেছিল দেশটির সরকার। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীদের আন্দোলনের মুখে ভোট স্থগিত করলো সেদেশের সরকার।
এদিকে এই সপ্তাহের মধ্যে বিবাহবর্হিভুত সহবাস, বিয়ের পরও অন্য কারোর সঙ্গে থাকা, ১৮ বছরের নীচে কাউকে গর্ভনিরোধক সরবরাহ করা বা গর্ভপাতের ওষুধ বিক্রি করা এবং প্রেসিডেন্টকে অপমান করা বিষয়ে আইন রয়েছে। এই অপরাধে জেলও হতে পারে অপরাধীর। ফৌজদারি ধারাগুলিকে সংশোধন করে নতুন আইন পাশ করানোর কথা ছিল সংসদে।
এই আইনের আওতা থেকে বাদ পড়বে না বিদেশিরাও। এ মাসের শেষে এই সংশোধিত আইন পাশ হলে বিদেশিরাও শাস্তি পেতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার একটি টেলিভিশন ভাষণে উইদোদো বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন দল যারা ফৌজদারি কোডের কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় নিয়ে আপত্তি অনুভব করায় ও তাদের মতামতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার পরে ভোট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
দুই দশকের বিতর্কের পর সংসদ চূড়ান্ত এই খসড়ায় রাজি হয়েছিল। তবে সমালোচকরা এই সংশোধিত আইনকে বিপর্যয় আইন বলে অ্যাখা দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে এই আইন সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।
মানবাধিকার কমিশন এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, গর্ভপাত করানোর বিষয়টি নারী বা মহিলাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীন। এ বিষয়ে দেশ কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
বিবাহবর্হিভুত সহবাসের জন্য ইতিমধ্যেই দেশের জেলগুলিতে অতিরিক্ত ভিড় হয়ে গিয়েছে। সরকার এ বিষয়ে জানিয়েছে, ৪০ শতাংশ অবিবাহিত যুব সম্প্রদায় যৌন সম্পর্কে লিপ্ত রয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, এ ধরনের সম্পর্কের জন্য একবছরের জেলও হতে পারে।








