গোল্লাছুট, জল-কুমির, লুকোচুরি খেলার নামই যেন ভুলতে বসেছে আধুনিক শিশুরা। এসব জায়গা দখল করে নিয়েছে আইপ্যাড, ট্যাবের মতো সব প্রযুক্তি।
তাই নচিকেতার মতো ‘ছোট ছোট শিশুদের শৈশব চুরি করে, গ্রন্থকীটের দল বানায় নির্বোধ’ এমনটা না বলে এখন বলা উচিত ইন্টারনেট কীট বানানো হচ্ছে আগামী প্রজন্মকে। এই অবস্থা শিশুকে মুক্তি দিতে একমাত্র কান্ডারী হতে পারেন বাবা-মা-ই। আপনিই পারেন ওদের জীবন থেকে ইন্টারনেটের কালো থাবা ছিনিয়ে নিয়ে ওদের জীবনে আবার সেই নানা রঙে রঙিন শিশুকাল ফিরিয়ে দিতে।
জেনে নিন তেমনই কিছু টিপস।
সন্তান যা চাইছে তাই তাকে দিয়ে বসবেন না। চেষ্টা করুন আগে সে কি চাইছে এবং কেন চাইছে সেটা আপনাকে বোঝানোর মতো যোগ্যতা অর্জন করতে। আর তাকে দেওয়ার আগেও বোঝান কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল।
প্রযুক্তি নির্ভর একটি বিশ্বে বসবাস করার কারণে আজকাল শিশুরা খুব ছোটতেই ইন্টারনেট ব্যবহার করা শুরু করছে। এমনকি অনেক বাবা-মাও চান তাদের সন্তানের হাতে প্রযুক্তি তুলে দিতে যেন শিশুরা বেশ স্মার্টলি নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে। কিন্তু জনাব বুঝে নিন, ইন্টারনেট কিন্তু খুবই খারাপ জায়গা। সেখান থেকে নিজের শিশুকে রক্ষা করতে হবে আপনারই।
তাই শিশুকে ইন্টারনেট দেওয়ার আগে আরো কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করুন। যেন সে চাওয়ার আগে নিজের অবস্থাটাও বুঝে নেয়।
ওকে বলুন, ১৩ বছর বয়সের আগে ইমেইল অ্যাকাউন্ট করাটা আইনবিরোধী। যদি তার ইমেইল আইডি দরকার হয় তাহলে সে যেন আপনারটা ব্যাবহার করে। এতে করে আপনিও খানিকটা নজর রাখতে পারবেন ওর ওপরে। আর সেটা সে টেরও পাবে না।
ওর সঙ্গে ইন্টারনেট এবং এর কুফল নিয়েও আলোচনা করুন। চেষ্টা করুন ওর বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে, তাদের মা-বাবার সঙ্গেও কথা বলুন।
যতটা পারেন ওর সঙ্গে মজার সময় কাটান। খেলুন, বই পড়ুন,গল্প করুন। দেখবেন ও আস্তে আস্তে সেসবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।
ওকে আরো বেশি আত্নবিশ্বাসী হতে সাহায্য করুন। নানান বিষয়ে ওকে শিখতে সাহায্য করুন। যেসব বিষয়ে ওর আগ্রহ রয়েছে। আত্নবিশ্বাস থাকলে এসব নিয়ে ওর তেমন মাথাব্যাথা থাকবে না।
শিশুকে ঘরের বাইরে যেতে, বাস্তবে নতুন নতুন বন্ধু বানাতে এবং মাঠে খেলাধূলা করতে উৎসাহিত করুন। এই বয়সে তাদের ভার্চুয়াল বন্ধুর কোনো প্রয়োজন নেই। তাই কোনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের অবস্থান অপ্রয়োজনীয়। ফেসবুক, টুইটার, গুগল হ্যাংআউট না হয় বন্ধ করে রাখুন ওদের হাতে থাকা প্রযুক্তিতে।






