যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে ইতিহাস গড়লেন হিলারি ক্লিনটন। ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
পার্টির ন্যাশনাল কনভেনশনে সুপার ডেলিগেটদের সবগুলোতেই সমর্থন পেয়েছেন সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চূড়ান্ত মনোনয়নের আগে সৃষ্টি হওয়া সব বিতর্ককে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হিলারি হয়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।
প্রথমবারের মতো নিজেদের মধ্য থেকে নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তো রচনা করেই ফেলেছেন ডেমোক্র্যাটরা, যা এর আগে কখনো হয়নি বিশ্ব-ক্ষমতায় শীর্ষে থাকা, সবসময় নারী অধিকার আর জেন্ডার সমতার বুলি আওড়ানো উন্নত বিশ্বের দেশটিতে। তবে এই ইতিহাস সম্পূর্ণ নয়। দুই অধ্যায়ের ইতিহাসের বইটিতে আরও একটি বিশাল অধ্যায় বাকি। আর সেই অধ্যায়টি লিখবেন ভোটাররা।
ফিলাডেলফিয়ায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ডেমোক্রেটিক দলের সম্মেলনের প্রথম দিনটি ছিল আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে দলটির মনোনীত প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সম্মেলনের শুরু থেকেই ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, ভারমন্ট সিনেটর ও হিলারির সবচেয়ে বড় প্রাইমারি প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সসহ দলের
সিনিয়র নেতারা হিলারি ক্লিনটনের ছায়াতলে দলকে একত্র করার কাজে নেমে পড়েন।
এরপর ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় হিলারি ক্লিনটনের নাম। ইমেইল কেলেঙ্কারিসহ সব বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে ৫০ জন সুপার ডেলিগেটের সবার ভোটই পেয়েছেন হিলারি। সাধারণ ডেলিগেটদের মধ্যে ২ হাজার ৩শ ৮২ ভোট নিয়ে মনোনয়ন গ্রহণ করেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ প্রতিদ্বন্দ্বী।
অবশ্য প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় হিলারির ওপরে উঠে আসার গতি আর জনগণের সমর্থন দেখেই সবাই ধারণা করতে পারছিলেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে।
হিলারি শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হতে পারুন আর না-ই পারুন, এত বছরের নির্বাচনী লড়াইয়ের চেহারা বদলে দেবেন, তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না। শেষ পর্যন্ত সেটাই হলো।
সম্মেলনের প্রথম দিনটি শেষ হয় হিলারির একটি ভিডিও বার্তার মধ্য দিয়ে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আমরা (নারীরা) এইমাত্র কাচের তৈরি ছাদের গায়ে সবচেয়ে বড় চিড়টা ধরাতে পেরেছি।’
হিলারি এর আগেও বলে এসেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নারী-পুরুষের সমঅধিকারের কথা বললেও নারীর মাথার ওপর সবসময়ই একটি অদৃশ্য কাচের ছাদ রয়ে গেছে, যা নারীর ওপরে ওঠাকে আটকে দেয়। অবশেষে সেই ছাদে সফল আঘাতের খুশিই ভিডিও বার্তায় প্রকাশ করলেন তিনি।
‘ছোট ছোট মেয়েরা যদি এখনো অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য জেগে থাকো, তোমাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমি হয়তো প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারি কিন্তু তোমাদেরই একজন এরপর এখানে থাকবে,’ ভিডিওতে বলেন হিলারি।
এই পর্যন্ত কাজটুকু করে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নারী প্রেসিডেন্ট’ নামক ইতিহাসের প্রথম অংশ তৈরিতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন হিলারি ক্লিনটন ও তার ডেমোক্রেটিক পার্টি।
এবার সেই ইতিহাসের পূর্ণতা দেয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের। তারাই এবার ভোট দিয়ে ঠিক করবেন, হিলারি সত্যিই প্রথম নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবেন কিনা। বিশ্ব পরাশক্তির ভবিষ্যতের মোড় ঘোরানো এখন তাদেরই হাতে।








