বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইতিহাসবিদরা বলছেন, এরকম স্বীকৃতির অনেক অাগে থেকেই ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বজুড়ে অলোচিত ও প্রশংসিত। সেজন্য ৪৬ বছর পর ইউনেস্কোর স্বীকৃতি নতুন করে ভাষণটির মাহাত্ম্য বাড়াচ্ছে না, তবে সেটি ভাষণটির এক ধরণের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
তারা বলেছেন, চরম সংকটময় মূহুর্তে পুরো দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুধু দেশেই নয় বিদেশের যতো ভাষণ অাছে তার মধ্যে মহত্তম। ইউনেস্কোর ঘোষণায় আমরা আনন্দিত, তবে ইউনেস্কোর আজকের এই স্বীকৃতির আগে থেকেই এ ভাষণ শ্রেষ্ঠ। ইউনেস্কো সেটাকে নতুনভাবে স্বীকৃতি দিলো।
‘তখনকার সংকটপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমগ্র জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে, সবাইকে একত্রিত করতে এ ভাষণ যে প্রভাব বিস্তার করেছে তা তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্ব বহন করে,’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ ভাষণ বদলে দিয়েছিলো তখনকার পুরো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।

‘তাই এরকম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত একটি ভাষণে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অবশ্যই আনন্দের। তবে এ স্বীকৃতির বহু আগে থেকেই দেশে-বিদেশে তা নন্দিত।’
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন মহল বরাবরই দাবি করে আসছিলেন বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের সেই উচ্চারণ পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম সেরা রাজনৈতিক ভাষণ। এবার ইউনেস্কোও আনুষ্ঠানিকভাবে সে কথাই জানাল।
মুনতাসীর মামুন বলেন: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ভাষণের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি বিশেষ প্রেক্ষিতে ভাষণটি দেয়া হলেও এখনও এর আবেদন কমেনি এতটুকু। জাতীয় দিবসগুলোতে তাই দেশজুড়ে বাজানো হয় এ ভাষণ।
‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চে দেয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণটি বিশ্বের ইতিহাসের একটি অনন্য সাধারণ ভাষণ। এই ভাষণের বহুমাত্রিক বিশেষত্ব রয়েছে। মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন।’







