সম্প্রতি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা। জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো বাহরাইনে এক সভায় একমত হয়েছে বিশ্বব্যাপি নতুন কিছু জায়গাকে তাদের সংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বিবেচনায় সংরক্ষণ করতে।
ওমানের কালহাটের প্রাচীন বন্দর নগরী
ওমানের পূর্বদিকের এই দেয়াল ঘেরা শহরটি ১১ ও ১৫ শতাব্দীতে ব্যস্ততম বন্দর ছিলো। এই বন্দর নগরীকে আরবের পূর্বের সঙ্গে সারা বিশ্বের যোগাযোগের একটি ‘অনন্য প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইউনেস্কো।
জাপানের নাগাসাকির লুকানো খ্রিস্টান স্থান
কিয়ুসু দ্বীপের এই জায়গাটিতে ১০টি গ্রাম, একটি দূর্গ এবং একটি প্রধান গীর্জা রয়েছে। ১৮ ও ১৯ শতকে ঠিক সেই সময়ে এসব গড়ে ওঠে যখন জাপানে খ্রিস্টান বিশ্বাস নিষিদ্ধ ছিলো। ইউনেস্কো মনে করে, জাপানে খ্রিস্টান মিশনারি ও সেটেলারদের প্রাথমিক কার্যক্রমের প্রতিফলন ছিলো এসব। লুকানো খ্রিস্টানদের লালিত পালিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন এটি।
ভারতের মুম্বাইয়ের গোথিক ও আর্ট ডেকো আর্কিটেকচার
১৯ শতকে বিশ্বব্যাপি বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিলো মুম্বাই। তখনই তারা শহুরে পরিকল্পনা প্রজেক্ট নিয়ে আসে। সেই সময়ে তারা বসবাস ও বাণিজ্য ব্যবহারের জন্য খুব সুন্দর কিছু ভবন তৈরি করে। ব্যালকনি ও বারান্দা সমেত ভবনগুলির অবকাঠামো খুবই ক্ল্যাসিকাল। আর আর্ট ডেকোর ভবনগুলোয় রঙের বিন্যাসে সিনেমা, ফ্ল্যাট ও হাসপাতাল তৈরি করা হয়। ইউনেস্কোর মতে ১৯ ও ২০ শতকে মুম্বাই যে আধুনিকীকরণ ধাপের মধ্যে দিয়ে গেছে তার নিদর্শন এই দুটি স্থান।
সৌদি আরবের আল আহসার নব্য সাংস্কৃতিক মরুদ্যান
আল আহসা পূর্ব আরবীয় উপদ্বীপ। সেটাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় মরুদ্যান, সেখানেই বর্তমানের নিওলিথিক যুগের মানুষদের বাসকেন্দ্র ছিলো। সেখানে ২.৫ মিলিয়ন খেজুর গাছ, ক্যানাল, দেয়াল, ড্রেনেজ লেক, ঐতিহাসিক ভবন ও অনেক প্রত্নতাত্বিক স্থান রয়েছে। ইউনেস্কো এটিকে পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সংযোগের ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সাউথ কোরিয়ার পাহাড়ী মঠ
সাউথ কোরিয়ার দক্ষিণে সানসা পাহাড়ী মঠ ৭ শতক থেকে বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানকার সাতটি মন্দিরে খোলা আঙ্গিনা রয়েছে, রয়েছে লেকচার হল, প্যাভিলিয়ন এবং অলঙ্কৃত বুদ্ধ হল। ইউনেস্কোর মতে, ছড়ানো এই সাতটি জায়গা বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে এবং নিয়মিত ধর্মীয় চর্চা হিসেবেই এখন পর্যন্ত টিকে রয়েছে।
ইরানের ফারস অঞ্চলের সাসসানেইড প্রত্নতাত্বিক ভূদৃশ্য
৩ ও ৫ শতকে সাসসানিয়ান সাম্রাজ্যের সময়ে ফারস অঞ্চলে সুরক্ষিত অবকাঠামো, প্যালেস ও শহর পরিকল্পনার আটটি প্রত্নতাত্বিক স্থাপনা। সেটা শুধু প্রাকৃতিক ভুসংস্থানের ব্যবহারই নয় বরং রোমান চিত্রকলার প্রভাব এবং আকাইমেনাইড ও পার্থিয়ান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শনও বহন করে।

কেনিয়ার শুকনো দেয়াল বন্দোবস্ত
কেনিয়ার লেক ভিক্টোরিয়া এলাকায় থিমলিচ ওহিনগা সবচেয়ে বড় ও সংরক্ষিত শুকনো দেয়াল বন্দোবস্ত। দেয়ালটি ১৬ শতকের দিকে তৈরি হয়েছে ধারণা করা হয়। ইউনেস্কো এটিকে ওই এলাকায় যাজক সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবেই উল্লেখ করেছে।








