রাশিয়া-ইউক্রেন সামরিক যুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে চলছে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। চলছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার পারস্পরিক দাবি। যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধবিরতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিষিদ্ধ প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা ও মজুদের পাল্টাপাল্টি দাবিও করা হচ্ছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্ব বলছে, রুশ হামলায় প্রতিনিয়ত বিধ্বস্ত হচ্ছে আবাসিক ভবন, হাসপাতালসহ বেসামরিক স্থাপনা। প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাশিয়ার পাল্টা অভিযোগ, মস্কোকে দোষারোপ করতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইউক্রেনই হামলা চালাচ্ছে। হাসপাতালেও অস্ত্র মজুদের দাবি করেছে মস্কো।
যুদ্ধের তিনদিনের মাথায় ৩ হাজার রুশ সৈন্যকে হত্যা ও দু’শ জনকে বন্দী করার দাবি করে ইউক্রেন। ওয়েবসাইট খুলে নিহত ও বন্দীদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জবাবে ইউক্রেন ইস্যুতে রুশ সরকারের ভাষ্য ছাড়া অন্য কোন তথ্য প্রকাশে রাশিয়ার গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা দেয় ক্রেমলিন। রাশিয়ায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লক করে দেয়া হয়, বিধি নিষেধ আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
ন্যাটো, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের আশঙ্কা, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া নিষিদ্ধ রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। প্রাণঘাতি এসব অস্ত্রের ব্যবহার হলে গোটা পরিস্থিতি বদলে যাবে বলে সতর্ক করেছে পোল্যান্ড। তবে মস্কোর দাবি, রুশ সীমান্তসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বায়ো-ল্যাব রয়েছে। যেখানে রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ এবং প্রাণঘাতি নার্ভ এজেন্ট নিয়ে চলছে গবেষণা।
যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে এক বছর ধরে ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সৈন্য মোতায়েন ও অস্ত্র মজুদ ইস্যুতে রাশিয়া বলছে, চলতি বছরের শুরুতে বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্রবাহী কমপক্ষে ৫০টি উড়োজাহাজ ইউক্রেনে এসেছে।
ইউক্রেনের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘণ করে রাশিয়ার অব্যাহত হামলার কারণে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। আর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে, বিদেশি নাগরিকসহ লোকজনকে জিম্মি করে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রাশিয়ার।
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে নতুন সংযোজন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার গুজব। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, ক্যান্সার চিকিৎসায় অতিরিক্ত ওষুধ নির্ভরতার কারণে স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছেন পুতিন। এ কারণেই তার শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেছে, অস্থির আচরণ বেড়েই চলেছে, সেই সঙ্গে বাড়াচ্ছেন অযৌক্তিক সামাজিক দূরত্ব।








