সাউথ আফ্রিকা পেসারদের দাপটে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে মাত্র ৪৪.২ ওভারে অলআউট হয়ে গেছে ইংল্যান্ড। প্রোটিয়া বোলারদের তোপে প্রায় আশাহীন ৪৭৪ রানের বিশ্বরেকর্ডের অপেক্ষায় থাকা ইংলিশরা ম্যাচ হেরেছে ৩৪০ রানের বড় ব্যবধানে। লর্ডসে হারের পর ট্রেন্ট ব্রিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়েই সিরিজে সমতা ফেরাল ডু প্লেসিসরা।
প্রথম ইনিংসে সাউথ আফ্রিকার ৩৩৫ রানের জবাবে ২০৫ রান করে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩৪৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে প্রোটিয়ারা। পরে ৪৭৪ রানের রেকর্ড তাড়া করতে গিয়ে ১৩৩ রানেই চিরে চ্যাপ্টা হল ইংলিশ ব্যাটিং।
প্রথম সন্তান জন্মের সময় দেশে থাকায় লর্ডসে খেলতে পারেননি ফ্যাফ ডু প্লেসিস। সেই ম্যাচে ১৮০ রানে হেরেছিল তার দল। তবে ট্রেন্ট ব্রিজে যে বিস্ময়কর পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিলেন তা কেবল সাউথ আফ্রিকার দক্ষতার কথাই প্রমাণ দিল না, কঠিন সময়ে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল।
ওয়ানডে সফলতার জন্যই কোচ টেভর বেলিসকে নিয়োগ দিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে সব শেষ ১০ টেস্টে সপ্তম পরাজয় তার সেই সাফল্যকে আড়াল করবে। ভারতের বিপক্ষে ৪-০তে সিরিজ হারের পর এই অসহায় ব্যাটিং প্রদর্শনের কারণে ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়বেন বেলিস।
ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ড যা খেলেছে তা তথ্য দিয়ে তুলনা করা মতো নয়। আগের তিনদিনের মতো চতুর্থদিনের শুরু থেকেই প্রচুর সুযোগ তৈরি করে সাউথ আফ্রিকা। লাঞ্চের আগে ইংলিশদের প্রথমসারির চার ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে বাকি ফ্যাশনটা দেখানো অপেক্ষায় থাকে তারা।
ইংল্যান্ডের এই ব্যাটিং লাইন আপকে বলা হয় যারা তার সেরা সময়ে খুব আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু আজ যে ছাপ তারা রাখল তাতে বোঝা যায় এটি শুধুমাত্র জোয়ার সঙ্গে সাঁতার কাটতে সক্ষম।
সাউথ আফ্রিকার নতুন বোলিং আক্রমণ ভারনন ফিল্যান্ডার ও মরনে মরকেল প্রথমেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তাদের দারুণ সহায়তা করেন ক্রিস মরিস ও কাসিগো রাবাদার জায়গায় দলে আসা ডুয়ানি ওলিভিয়ার।
ফিল্যান্ডার বারবার এমন একটি চমৎকার লাইন এবং লেন্থে বল করে গেছেন যেন পিচে তার ফালানোর জায়গা নির্ধারিত ছিল। আর মরকেল অস্বস্তিকর বাউন্স পেয়েছলেন এবং মরিস বাউন্সার ও ইয়রকারের সমন্বয়ে ইংল্যান্ডের প্রতিরোধের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন।
ক্রিজে মানিয়ে নিয়ে উইকেট খোয়ান অ্যালেস্টার কুক। ব্যক্তিগত ৪২ রানে প্রোটিয়া পেসার ক্রিস মরিসের ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন এ ইংলিশ ওপেনার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ রান মঈন আলীর। আর কোনো ব্যাটসম্যান ২০’র বেশি রান করতে পারেননি।
ব্যাটিং ক্রমের শীর্ষ ৪-এর অপর তিন খেলোয়াড় কিটন জেনিংস, গ্যারি ব্যালেন্স ও জো রুট উইকেট খোয়ান যথাক্রমে ব্যক্তিগত ৩, ৪ ও ৮ রানে।








