সফরকারী কোন দলের জন্য সেরা নিরাপত্তার বেড়াজাল নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশে এসেছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। সফরে ইংলিশদের দেয়া সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তুষ্ট করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকেও (সিএ)। তারই ফলশ্রুতিতে আগস্টে দুটি টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে আসছে অজিরা। তবে নতুন করে বিসিবি যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে তাতেও সন্তুষ্ট সিএ। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী রোববার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ড দল যখন বাংলাদেশ সফর করে তখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে দেখতে এসেছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা পরামর্শক শিন ক্যারল। তখনই নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্টির কথা বলে গিয়েছিলেন তিনি। নিজামউদ্দিন চৌধুরী মনে করেন আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আস্থা রেখেছেন বলেই দুবাইয়ে আইসিসির সভা শেষে দেশটির বোর্ড প্রধান বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন।
‘কোন সিরিজের আগে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পাঠাতে হয়। আগেও জেনেছেন, ইংল্যান্ড দল যখন বাংলাদেশ সফর করে, তখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা পরামর্শক শিন ক্যারল বাংলাদেশে এসেছেন এবং আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে দেখেছেন। তার ভিত্তিতেই কিন্তু সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সিএ। তাদের আসার ব্যাপারটি নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে সেটিই ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে যখন পুর্ণাঙ্গ নিরপত্তা পরিকল্পনা পাঠানো হয়, তাতে যে প্রতিউত্তর এসেছে সেটিতেও আমরা আশাবাদী।’
বিসিবির প্রধান নির্বাহী জানান ঈদুল আযহার আগে প্রথম টেস্ট ও ঈদুল আজহার পরে দ্বিতীয় টেস্টটি মাঠে গড়াবে। প্রথম টেস্ট চট্টগ্রামে ও পরেরটি মিরপুরে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
‘এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্ল্যান) কমিটমেন্ট অনুযায়ী দুটি টেস্ট খেলতে আগস্টের মাঝামাঝি আসবে অস্ট্রেলিয়া। ঈদুল আযহার আগে একটা ও পরে আরেকটা টেস্ট হবে। প্রস্তুতি ম্যাচ থাকবে। তবে দুই বোর্ড যখন কনফার্ম করে, তখনই কেবল পুর্ণাঙ্গ সূচি জানানো হয়। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ক্ষেত্রে দুই বোর্ডের সম্মতিক্রমেই সূচি প্রকাশ করা হয়। আমাদের একটা প্রস্তাবিত শিডিউল আছে, যেটা এ মুহূর্তে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।’
২০১৫ সালের অক্টোবরে দুটি টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া দলের। কিন্তু অস্ট্রেলীয় সরকারের নির্দেশে সেই সফর স্থগিত হয়ে যায়। দেশটির সরকার নিরাপত্তাজনিত এক সতর্কবার্তায় বলেছিল, সফরের ওই সময়টিতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে। পরে সিরিজটি বাতিল করে সিএ। তারই জেরে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকেও নাম প্রত্যাহার করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। গেল বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ড সিরিজ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক হয় অস্ট্রেলিয়া।







