আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে চাকরি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন শিবিরের হামলায় পঙ্গুত্ব বরণ করা ছাত্রলীগ নেতা মোঃ সাইফুর রহমান বাদশা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী তিনি।
রোববার বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অডিটোরিয়ামে ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘অপকর্ম’ থেকে দূরে রাখতে টাকা, চাকুরি- যা দরকার তার ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী কাদেরের এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তার বরাবর ‘চাকুরীর জন্য আবেদন’ করেন বাদশা।
আবেদনপত্রে বাদশা লিখেন, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী জামাত-শিবিরের নির্মমতার শিকার হন তিনি। ঘটনার দিন জামাত-শিবিরের অতর্কিত হামলায় নিহত হয় রাবি ছাত্রলীগের কর্মী গনিত বিভাগের মেধাবী ছাত্র ফারুক হোসেন। আর হাত পায়ের রগ কেটে দেয় বাদশা এবং ফিরোজ নামে আরেক কর্মীর। এছাড়া বিভিন্নভাবে কুপিয়ে আহত করে ১৫-২০ জন ছাত্রলীগ নেতা কর্মীকে।
“মর্মান্তিকভাবে আহত বাদশাসহ অন্যরা দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে কোন মতে বেঁচে গেলেও পঙ্গু হয়ে যায়।”
সেসময় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ এবং ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় সাবেক মন্ত্রী সাহারা খাতুন,আ ফ ম রুহুল হক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজার রহমান ফিজার,সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, প্রয়াত মুজিবুর রহমান ফকির, বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সহ শতাধিক সংসদ সদস্য হাসপাতালে তাদের দেখতে গিয়ে সুচিকিৎসার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেন বলেও আবেদন পত্রে উল্লেখ করেন বাদশা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে বাদশা আরও লিখেন, “তার পর কেটে গেছে সাড়ে সাত বছর, গত ২৪ মে সরকারী চাকুরীতে আবেদনের বয়স শেষ ও হয়ে গেছে.. রিটেনে টেকার পরও কেউ একটা চাকুরী দিতে পারেন নি, দেন নি.. আমার একটা চাকুরী পাওনা ছিলো আওয়ামী লীগের কাছে… ”
চাকুরি না পেয়ে, বয়স শেষ হয়ে যাওয়াতে সে এখন অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করছে যা দিয়ে স্ত্রী, পুত্র, বয়স্ক বাবা-মায়ের খরচ বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
কিন্তু রোববার গণমাধ্যমের খবর দেখে নতুন করে আশাবাদী হয়েছে বাদশা। ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চাকুরি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বাদশা ওবায়দুল কাদেরের কাছে একটি চাকুরি চেয়েছেন। হোক যত ছোট চাকরি। চাকুরি হলেই তার চলবে। মুক্তি মিলবে তার দুর্বিষহ জীবনের। স্ত্রী, সন্তান, পরিবার নিয়ে খেয়ে-পড়ে বাঁচতে চেয়েছে বাদশা।
তিনি লিখেন, “অতএব জনাব সাধারণ সম্পাদকের কাছে পিয়ন/এমএলএসএস এর একটি চাকুরী চাচ্ছি, যেটা দিয়ে আমি আমার পরিবার পরিজন সহ খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাই..”
আর তা না হলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে এক বোতল বিষ উপহার চেয়েছে বাদশা। লিখেছেন, “আমার আশা এবং বিশ্বাস মাননীয় সাধারণ সম্পাদক দলের জন্য আমার ত্যাগ,নির্যাতিত হওয়া,পঙ্গু হওয়া,অবদান সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আমার একটা সরকারী চাকুরীর ব্যবস্থা করবেন নয়তো একবোতল বিষ উপহার দিবেন।”







