ওজন বেড়ে যাচ্ছে, তাই খাবার তালিকা থেকে একেবারেই বাদ দিয়েছেন ফ্যাটযুক্ত খাবার। কিংবা বিকল্প হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন লো ফ্যাট খাবার। কিন্তু আপনি কি জানেন যে নিজের অজান্তেই আপনি আপনার জীবনের চার ভাগের এক ভাগ আয়ু কমিয়ে ফেলছেন? বেশ কয়েকটি গবেষণা জানাচ্ছে চমকপ্রদ এই তথ্য।
এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়েছেন কানাডার ম্যাক মাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যানদ্রু মেন্টে ও তার গবেষক দল। বিশ্বের ১৮টি দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস এবং মৃত্যুর হারের ওপর প্রায় সাত বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন গবেষকরা। গবেষণাটি ল্যানচেটে প্রকাশিত হয়েছে।
অ্যানদ্রু মেন্টে বলেছেন, ‘আমাদের গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে যে লো ফ্যাট ডায়েট মানুষের হৃদপিণ্ডের নানান সমস্যা সৃষ্টি করে।’ গবেষকের মতে, ফ্যাট যুক্ত খাবারে নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা একদম কমিয়ে দেয়াটাই ইতিবাচক।
স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুব বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, এমনকি হার্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কিন্তু বার্সেলোনার ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলোজি কংগ্রেস এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণাতেও দেখা গেছে যে যারা স্যাচুরেটেড ফ্যাট একদমই কম গ্রহণ করেছেন তাদের মৃত্যু ঝুঁকি যারা পর্যাপ্ত গ্রহণ করেছেন তাদের তুলনায় ১৩% বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে যে সব ধরণের ফ্যাট খাবার গ্রহণ করলে অকালে মৃত্যু ঝুঁকি প্রায় ২৩% কমে যায়।
পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের মতে, যারা অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খেয়ে থাকেন তাদের অকালে মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পুরো এনার্জির জন্য কার্বোহাইড্রেটের ওপর নির্ভর না করে ৩৫% এনার্জি ফ্যাট থেকে এবং ৫০% এনার্জি কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। যার মধ্যে মাত্র ৫% থাকা উচিত চিনি থেকে।
পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের প্রধান পুষ্টিবিদ ডঃ অ্যালিসন টেডস্টোনের মতে, অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার খেতে মানুষের ওজন বেড়ে যায় এবং হার্টের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আবার খাবার তালিকা থেকে একেবারে ফ্যাট বাদও দেয়া যাবে না। তাই ব্যালেন্সড ডায়েট প্রয়োজন।
অক্সফোর্ডের প্রফেসর সুসান জেবও পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের এই মতামতে সহমত জানিয়েছেন। টেলিগ্রাফ








