বর্ষাকালে প্রকৃতির আচরণ থাকে সাধারণত একটু ভিন্নরকম। এই রোদ, এই ঝুম বৃষ্টি। তবে রোদ-বৃষ্টি যাই হোক এ সময় ছাতাই যেন হয়ে উঠে মানুষের প্রিয়সঙ্গী। দাম চড়া হলেও বৃষ্টি কিংবা রোদ থেকে রক্ষা পেতে সেই ছাতা কিনতে কার্পণ্য করেন না কেউই। আর যাদের বাসা বা বাড়িতে নষ্ট ছাতা রয়েছে তারা মেরামত করাতে ছুটে যান কারিগরের কাছে।
গত কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। এ সময় বিভিন্ন মার্কেটে যেমন দেখা গেছে ছাতা বিক্রির ধুম; তেমনি ছাতা মেরামতের কাজেও চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।
‘‘আজ অনেক কামাই করেছি। আর দরকার নাই। আসেন, ছাতা ঠিক করান ফ্রি, টাকা লাগেবে না।’-এমন লোভনীয় অফার দিয়ে লোকজনকে ডাকছেন কারওয়ান বাজার মসজিদ মার্কেটের সামনে ফুটপাতে বসে থাকা হাবিবুল। যিনি আবার পেশায় একজন তালা-চাবি ঠিক করানোর কারিগর।
সত্যি ফ্রি কিনা জানতে চাইলে নিজের নাম হাবিবুল পরিচয় দিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় তালা মেরামত বা চাবি বানাতে আগের মতো লোকজন আসছে না। সবাই নিয়ে আসছে নষ্ট ছাতা।
তিনি জানান, বছরের অন্য সময় ছাতা মেরামতের কাজ তেমন একটা আসে না। এখন বৃষ্টি হওয়ায় চাহিদা বেড়ে গেছে।
‘‘আজ ২৫ থেকে ৩০টা নষ্ট ছাতা ঠিক করেছি। প্রত্যেকটা ঠিক করাতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা নিয়েছি। বেশ কামাই হয়েছে। এখন কারো কাছে টাকা না থাকলে ফ্রি ঠিক করিয়ে দেব।’’ বলেন হাবিবুল।
শুধু হাবিবুলই নয়, ওই ফুটপাতে ২০ থেকে ২৫টা তালা মেরামত ও চাবি বানানোর দোকান রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই বৃষ্টির দিনে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫টা ছাতা মেরামত করেন বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান। 
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন নয়ন কবির। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, রোদে কষ্ট করে যাতায়াত করতে পারলেও বৃষ্টিতে করা যায় না। তাই বৃষ্টি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে নষ্ট ছাতাটি ঠিক করিয়েছি। কারণ নতুন ছাতা কিনতে গেলে কমপক্ষে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা গুণতে হয়। 
একই এলাকার ২ নম্বর মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, ছাতা কিনতে ভিড় জমিয়েছেন অনেক ক্রেতা। প্রায় প্রতিটি দোকানে ব্যাগ বা অন্যান্য পণ্য থাকলেও বিক্রির শীর্ষে ছাতা রয়েছে বলে জানান দোকানিরা।
ছবি: জসিম উদ্দিন বাদল








