‘আসামে বাঙালিদের গায়ে হাত পড়লে ছেড়ে কথা বলব না’ বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার সমালোচনা করেছে আসামের সরকার ও বিরোধীপক্ষসহ অনেকেই। এমনকি এমন মন্তব্যের কারণে মমতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়: অাসামের নাগরিকত্ব বিষয়ক (এনআরসি) প্রথম খসড়া ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বুধবার এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমমতা বন্দোপাধ্যায়। কেন্দ্র ও অাসামের বিজেপি সরকারের নাম উল্লেখ না করেই বুধবার বীরভূমের জনসভায় মমতা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না।
‘অাসাম পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি রাজ্য। সেখানে গোলমাল হলে তার প্রভাব আমাদের রাজ্যেও পড়বে। আসামে সবাই বাঙালি খেদাও আন্দোলন করছে। চক্রান্ত করে মানুষকে নিজের এলাকা থেকে সরানোর নোংরা চেষ্টা করছে বিজেপি’, বলেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী।
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আসামের দিসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ‘কৃষক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ’-এর অভিযোগ, এমন মন্তব্যের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা করেছেন মমতা। সেই সঙ্গে অাসামে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মমতাকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছে তারা।
আসামে তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষের আবেদন জমা পড়েছিল ভারতের নাগরিক হিসেবে যুক্ত হওয়ার জন্য। ৩১ ডিসেম্বর যে খসড়া প্রকাশিত হয় তাতে এক কোটি ৯০ লাখ আবেদনকারীর নাম ওঠে। বাকি এক কোটি ৩৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে।
এরপর আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ঘোষণা করেন: রাষ্ট্রীয় নাগরিক তালিকায় যাদের নাম নেই তাদের রাষ্ট্রীয় কোন সুযোগ সুবিধা মিলবে না। এই ঘোষণার পর আসাম রাজ্য জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আসাম সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রথম দফায় খসড়ার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী বছর দ্বিতীয় দফার খসড়া প্রকাশ করা হবে।








