আসামের চূড়ান্ত নাগরিক নিবন্ধন তালিকা বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি)-এ জায়গা পাননি ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা।
ইন্ডিয়া টুডে, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও ফার্স্টপোস্টসহ ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের ছোট ভাই এতরামুদ্দিন আলী আহমেদের ছেলে জিয়াউদ্দিন আলী আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যদের নাম।
৫০ বছর বয়সী জিয়াউদ্দিন আলী পেশায় একজন কৃষক। তিনি আসামের কামরুপ জেলার অধিবাসী।
জিয়াউদ্দিন জানান, তার দাদা, অর্থাৎ ফখরুদ্দিন আলী ও এতরামুদ্দিন আলীর বাবা জলনুর আলী আহমেদ কর্নেল পদমর্যাদার একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নিয়েছিলেন। পুরো আসাম জুড়েই খ্যাতি ছিল তার।
এমন একটি অতীত মর্যাদা থাকা পরিবারের সদস্যদের এনআরসি’তে নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন জিয়াউদ্দিন।
তালিকা নিয়ে আশা ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জিয়াউদ্দিন আলী। চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় নথিভুক্তির জন্য আপিল আবেদনও করেননি তারা কেউ। তার ছেলে সাজিদ আলী জানান, এ বিষয়ে খসড়া অবস্থায় আবেদন জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় তাদের কাছে পুরনো সব নথিপত্র না থাকায় তারা নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি বলে জানান।

ফখরুদ্দিন আলীর পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনোরকম সাহায্য পাওয়া যায়নি, যদিও এনআরসি ওয়েবসাইটে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
এদিকে এনআরসি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রোববার টুইটারে দেয়া এক পোস্টে আসামের নাগরিক তালিকাকে ‘অভিসন্ধিমূলক ব্যর্থ নাটকীয়তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মমতা। বলেন, তিনি জানতেন না তালিকাটি নিয়ে এমন কিছু চলছে।
টুইটে তিনি বলেন, চূড়ান্ত এনআরসি থেকে হাজারো প্রকৃত ভারতীয়র নাম বাদ পড়ে যাওয়া দেখে তিনি হতভম্ব।
‘হাজার হাজার প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সিআরপিএফ ও অন্যান্য বাহিনীর সেনা সদস্যরা, এমনকি সাবেক রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
Earlier I was not aware of the full NRC fiasco. As more and more information is coming in, we are shocked to see that names of more than 1 lakh Gorkha people have been excluded from the list. (1/3)
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) September 1, 2019
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আনওয়ারা তৈমুরের পরিবারের সদস্যরাও জায়গা পাননি এনআরসি’তে।
মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নাগরিক তালিকার নাম করে বাংলাভাষীদের আসাম থেকে তাড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।






