শেষ পর্যন্ত আইন করেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের জন্য
অভিযুক্ত ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলাম। জাতীয় সংসদের বাজেট
অধিবেশনেই এই বিল পাস হতে যাচ্ছে। এই আইনের আওতায় ভবিষ্যতে কেউ বা কোনো দল
রাষ্ট্রীয় মূলনীতির পরিপন্থি জামায়াতের আদর্শের রাজনীতি করতে পারবে না।
আইনে এর জন্য সবোর্চ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে।
জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি বহু আগের। ১৯৭৮ সালে গোলাম আযম দেশে আসার পর মাওলানা আবদুর রহিমের ইসলামিক ডেমোক্রেটিক দল থেকে আশ্রয় নেয়া জামায়াত নেতাদের দিয়েই পুনরুজ্জীবিত করা হয় জামায়াত ইসলামী। গোলাম আযম হন এর অঘোষিত আমীর। সেই থেকেই গোলাম আযমসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি শুরু।
শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই বিচার চলছে। ইতোমধ্যে এই বিচারে ৫ জনের ফাঁসির দণ্ডও কার্যকর হয়েছে।
ওইসব রায়ে ট্রাইব্যুনাল অনেকবারই দল হিসেবে জামায়াতকেও যুদ্ধাপরাধের জন্য জড়িত বলে উল্লেখ করেছে। এবার জামায়াত ও জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য আইন করছে সরকার।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘তারা (জামায়াত) রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পূর্ণ দলীয়ভাবে যুদ্ধাপরাধ করেছে। এ অপরাধগুলো কেউ ব্যক্তিগতভাবে করেনি। যেহেতু দলীয়ভাবে যুদ্ধাপরাধ ঘটানো হয়েছে, সেহেতু দলটিও এ অপরাধে অপরাধী।’
এ অভিযোগেই আগামী সংসদ অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীকে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে সরকার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। আইন ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। সুতরাং আগামী অধিবেশনেই আইনটি পাস করা যাবে বলে জানান মন্ত্রী।
তবে জামায়াত নিষিদ্ধের পর রাষ্ট্রের মুলনীতি নতুন নামে দল নিবন্ধনে বাধা না থাকলেও এই আইনের আওতায় ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রের মূলনীতির বাইরে গিয়ে কোনো নামে দল করলে অথবা সংবিধানের কোনো ধারা নিয়ে বির্তক সৃষ্টি করলে বা সংবিধানের কোনো ধারা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে সর্বনিম্ন ১০ বছরের সাজাসহ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ফাঁসির ব্যবস্থা থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, দল নিষিদ্ধ করলেও নিশ্চয়ই তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে না। তারা বিভিন্ন নামে, বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন কায়দায় বিচরণ করবে। কিন্তু তাই বলে তাদের আগের নামে থাকতে দেয়া যাবে না। রাষ্ট্রের মূলনীতির বাইরে গিয়ে দল করার এখতিয়ার কোনো দেশেই কারও নেই।
বাংলাদেশেও এর পর থেকে এমন কিছু হলে
সেই দলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
গণবাহিনী গঠন করার পরও জাসদ ক্ষমা চাইবার কারণে তাদের মাফ করে দেয়া হয়েছিল। যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলাম তাদের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইলে সেটিও বিবেচনায় নেয়া হতো বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।








