নো ম্যানস ল্যান্ডের ছোট রোহিঙ্গা শিশুরাও জানে কিভাবে খেলা করতে হয় ও আনন্দ করতে হয়। ছোট ছোট খুপরি ঘর আর ময়লা ছড়ানো পথের মাঝখানেই কিছু শিশু কখনো দড়ি আবার কখনো হ্যান্ড পাম্পের পানি নিয়ে মেতে ওঠছে খেলায়। পাশেই বসে বসে গল্প করছে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ।
অস্থায়ী এই ঘরগুলোর পরেই এক কঠোর নিরাপত্তা বেস্টনি। আর তার ওপাশে কিছু সতর্ক মিয়ানমার বর্ডার পুলিশ।
প্রতিদিনই ওই বেস্টনির ফাঁক দিয়ে দিল মোহাম্মদ তাকান। ভাবেন হয়তো খুব শিঘ্রই বেড়ার ওপাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজের গ্রামে নিজের ঘরে ফিরে যেতে পারবেন তিনি।
তবে বড় পরিহাসের বিষয়টা হলো, তিনি তখনও মিয়ানমারের সীমানার মধ্যেই কিন্তু চেকপয়েন্ট পেরিয়ে নিজের ঘরে যাওয়ার অনুমতি তার নেই।
দিল মোহাম্মদ একা নয়। আরো অন্তত ৫০০০ রোহিঙ্গা নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছে। এই নো ম্যানস ল্যান্ড বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তের মাঝখানে এক টুকরো ভূমি।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে এরাই প্রথম পালিয়ে আসে দেশ থেকে। কক্সবাজার থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে তমব্রু চেকপয়েন্টের কাছে এই ক্যাম্পটি একটি ছোট খালের কারণে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। যদিও ক্যাম্পটি মিয়ানমার সীমানার মধ্যেই অবস্থিত তারপরও নিরাপত্তা বেস্টনির কারণে পুরো দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন।
সেখানে থাকা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সীমান্ত পেরিয়ে আসতে পারে খাবার সংগ্রহ ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য কিন্তু মিয়ানমারে যেতে পারে না। দিল মোহাম্মদ বলেন, আমাকে বাংলাদেশে যেতে চার বাংলাদেশি বর্ডার গার্ডের চেকপয়েন্ট পার হতে হয়।
ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা বাঁশ আর পলিথিনের ত্রিপল দিয়ে খুপড়ি বানিয়েছে। পানি সরবরাহ করা পাম্পের পাশেই ময়লা যাওয়ার পথ।
নুরুসসান নামের নারীটিও ক্যাম্পেই বসবাস করেন। জানান, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন তার ও তার পরিবারের উপর গুলি চালায়, তখনই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। এই ক্যাম্পে জীবনধারণ খুবই কঠিন। গরম প্রচণ্ড আর রান্নার জন্য জ্বালানিও মেলেনা। মাঝে মাঝে ইউনিসেফের ডাক্তাররা এলাকা পরিদর্শনে আসে, তাছাড়া আর কোনো চিকিৎসা সুবিধাও নেই এখানে।
পাশেই সীমান্ত বেস্টনির ওপারে থাকে আরো সতর্ক নিরাপত্তারক্ষীরা। তারা কখনো কখনো মাউথস্পিকারে উপর চিৎকার করে আর বলে, বাংলাদেশে চলে যেতে, বলেন নুরুসসান।
এই মাসের শুরুর দিকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিলো বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায়। জানানো হয়েছিলো মিয়ানমার হঠাৎই সীমান্তে তাদের সেনাসদস্য বৃদ্ধি করেছে। পরে যদিও তারা সেটা আবার সরিয়ে নেয়।
তবে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের এরিয়া কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান জানান, গত ছয় মাসে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম দেখিনি বরং শুধু কিছু নিষ্পাপ নারী ও শিশু দেখেছি।







