চাঁদাবাজি, জমি দখলের চেষ্টা ও ভাঙ্গচুরের অভিযোগে আশুলিয়া থানায় করা পৃথক দুই মামলায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এই দুই মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে এই জামিন দেয়া হয়েছে।
বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই জামিন আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।
গত ১৫ অক্টোবর রাতে আশুলিয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুরের মোহাম্মদ আলী (৫৬) ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আনিছুর রহমান (৫৫)।
মামলায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছাড়া আরো তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন (৫৭), গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির (৫৫) ও নূর মোহাম্মদের ছেলে আওলাদ হোসেন (৪৮)।
গণস্বাস্থ্যের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম শিশির, গণস্বাস্থ্যে কর্মরত মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে সোমবার মামলা (মামলা নম্বর ৪১) করেছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আশুলিয়া থানাধীন পাথালিয়া মৌজায় ৪ দশমিক ২৪ একর জমির ক্রয়সূত্রে মালিক মোহাম্মদ আলী, আনিছুর রহমান ও তাজুল ইসলাম। তাঁদের মালিকানাধীন জমিতে কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে টিনশেডের ঘর বানিয়ে গাছপালা রোপণ করেছেন। কিন্তু আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এ জমি দখল করার চেষ্টা করছেন।
সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর আসামিরা ওই জমিতে হাজির হয়ে বলেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নির্দেশে এ জমি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে অথবা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে এক কোটি টাকা জরিমানা দিতে হবে। বাদীরা এ টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা জমিতে ভাঙচুর করেন।
এর চার দিন পরে ১৯ অক্টোবর চাঁদা দাবি, ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ এনে আশুলিয়া থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই দিন রাতে আশুলিয়ার ডেণ্ডাবর এলাকার বাসিন্দা হাসান ঈমাম বাদী হয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাঁর মালিকানাধীন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশের একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখলের চেষ্টার পাশাপাশি জমির মালিকের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।







