বৃষ্টি আর ভেজা মাঠের কারণে চারদিনের ম্যাচে তিনদিন কোনো খেলাই হয়নি। তবে একদিন সময় পেয়েই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। অপরাজিত ১৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন। আশরাফুলের দিনে আরেক ম্যাচে টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়। প্রথমে ১২৬ এর পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৫১ রান তার।
বগুড়ায় জাতীয় লিগের টায়ার-২ এর ম্যাচ হয় বরিশাল ও ঢাকা মেট্টোর মধ্যে। সেখানে টস হেরে আগে ব্যাট করে বরিশাল। শাহরিয়ার নাফিসকে (১৮) সঙ্গে নিয়ে ওপেনিংয়ে ৫৬ তোলেন আশরাফুল। পরে অবশ্য দ্রুত অধিনায়ক ফজলে মাহমুদ (১৮), নুরুজ্জামান (০) ও মঈন খানের (৩) উইকেট হারায় বরিশাল।
তবে জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে আশরাফুলকে সঙ্গ দেন সোহাগ গাজী (৫৫ বলে ৬৮) ও সালমান হোসেন (৬৫ বলে অপরাজিত ৫০)। সোহাগ-সালমানের সঙ্গ পেয়ে শুরু থেকে শেষপর্যন্ত সমানতালে ব্যাট চালাতে থাকেন আশরাফুল। প্রথমে ৪১ বলে তোলেন হাফসেঞ্চুরি। ১৩৫ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। আর শেষপর্যন্ত ২০৪ বলে অপরাজিত থাকেন ১৫০ রানে। ১৬টি চারে সাজানো তার ইনিংস।
আশরাফুলের দেড়শ পূরণ হওয়ার পরই ৫ উইকেটে ৩১২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বরিশাল। জবাবে বিনা উইকেটে ৪০ রান করার পর ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা মেট্রো। এরপরই দুদল ম্যাচে ড্র মেনে নেয়।
ড্র হয়েছে কক্সবাজারে ঢাকা এবং খুলনা ডিভিশনের টায়ার-১ এর ম্যাচও। ম্যাচের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন এনামুল হক বিজয়। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৫১ রান করেন তিনি। ২২৫ বলে ৯ চার ও ৮ ছক্কা মারেন তিনি। বিজয়ের সেঞ্চুরি ছাড়াও হাফসেঞ্চুরি করেন ইমরান উজ্জামান (৬৮) ও নুরুল হাসান (৬১)।
খুলনার প্রথম ইনিংসে করা ৩৭১ রানের জবাবে ঢাকা অলআউট হয় ৩১৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩০১ রানে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। এতে ঢাকার সামনে জয়ের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় ৩৫৬ রানে।
ব্যাট করতে নেমে ১১৯ রানেই ৭ উইকেট খুইয়ে হারের মুখে পড়ে ঢাকা। তবে সময় স্বল্পতার কারণে ম্যাচ ড্র হয়। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও পাঁচ উইকেট নেন মেহেদী হাসান।
বরিশাল-ঢাকার ম্যাচ ড্র হলেও কক্সবাজারে জমজমাট লড়াই হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর ডিভিশনের ম্যাচে। লো-স্কোরিং ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ৬ রানে জিতেছে রাজশাহী।
প্রথম ইনিংসে ২০১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯০ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৪ রান করে ৭৩ রানের লিড নেয় রংপুর। কিন্তু ১১৮ রানের টার্গেটে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। পাঁচটি করে উইকেট নিয়ে রংপুরকে খাদে ঠেলেছেন রাজশাহীর দুই বোলার সানজামুল ইসলাম ও সাকলাইন সজীব।
রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত টায়ার-২’র আরেক ম্যাচে সহজ জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম ডিভিশন। সিলেট ডিভিশনকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।
সিলেটের প্রথম ইনিংসে করা ১৬৩ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ২২৯ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় ইনিংসেও হতাশার ব্যাটিং করে সিলেট, অলআউট হয় ১০৯ রানে। চট্টগ্রামের মেহেদী হাসান রানা নেন পাঁচ উইকেট।
৪৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে মাত্র এক উইকেট হারিয়েই জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।








